“পয়লা বৈশাখে ক্যানিং বাজারে জনসংযোগে ঝড়, শুভেচ্ছা বিনিময়ে ভোটের বার্তা পরেশ রাম দাসের”

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : বাংলা নববর্ষ মানেই নতুন শুরুর অঙ্গীকার, আর সেই আবহকেই কাজে লাগিয়ে ভোটের প্রচারে নতুন মাত্রা যোগ করলেন ক্যানিং পশ্চিম কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী পরেশ রাম দাস। পয়লা বৈশাখের সকালেই ক্যানিং বাজার চত্বর রঙিন হয়ে ওঠে রাজনৈতিক জনসংযোগের আবহে। সকাল দশটা নাগাদ ক্যানিং বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাঁর প্রচার অভিযান শুরু হয়, যা ধীরে ধীরে গোটা বাজার এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।
এদিন প্রচারের ধরন ছিল একেবারেই আলাদা। কোনও মাইকিং বা বড় মিছিল নয়, বরং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের ওপরেই জোর দেন তিনি। বাজারের দোকানদার, ব্যবসায়ী, ক্রেতা থেকে শুরু করে পথচলতি মানুষ—সবার সঙ্গে হাত মেলান, কুশল বিনিময় করেন এবং বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান। অনেক জায়গায় তাঁকে স্থানীয়দের সঙ্গে হাসিমুখে কথোপকথন করতে দেখা যায়, যা গোটা প্রচারকে এক আন্তরিকতার আবহ এনে দেয়।

পরেশ রাম দাস বলেন, “বাংলা নববর্ষ আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। এই দিনে মানুষের সঙ্গে দেখা করে শুভেচ্ছা জানাতে পারা এবং তাঁদের আশীর্বাদ নেওয়া—এটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।” তিনি আরও জানান, মানুষের ভালোবাসা ও সমর্থনই তাঁকে আগামী দিনে আরও বড় দায়িত্ব নেওয়ার সাহস জোগায়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের জনসংযোগমূলক প্রচার সাধারণ ভোটারদের কাছে দ্রুত গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করে। বিশেষ করে উৎসবের দিনে যখন মানুষের মন থাকে আনন্দে ভরপুর, তখন নেতার এমন সরাসরি উপস্থিতি ভোটের সমীকরণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই ক্যানিং পশ্চিম কেন্দ্র থেকেই প্রায় ৩৫ হাজার ভোটে জয়লাভ করেছিলেন পরেশ রাম দাস। সেই অভিজ্ঞতা ও সংগঠনের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে এবারও তিনি আত্মবিশ্বাসী। শুধু তাই নয়, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে জয়নগর কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী প্রতিমা মণ্ডল প্রায় ৭০ হাজার ভোটে লিড পান এই অঞ্চল থেকে, যা দলের সংগঠনগত শক্তিরই প্রমাণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।
এবারের নির্বাচনে সেই ব্যবধান আরও বাড়বে বলেই আশাবাদী পরেশ রাম দাস। তাঁর কথায়, “গতবার মানুষ আমাদের ওপর যে ভরসা রেখেছিলেন, এবার সেই ভরসা আরও বহুগুণে বাড়বে। আমরা উন্নয়নের কাজ করেছি, মানুষের পাশে থেকেছি—সেই কাজই আমাদের জয়ের পথ আরও সুগম করবে।”
ক্যানিং বাজারে এদিনের এই প্রচার শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, এক অর্থে ছিল উৎসবের আনন্দে মিশে যাওয়া এক জনসংযোগের ছবি। নববর্ষের শুভেচ্ছার সঙ্গে ভোটের বার্তা মিলিয়ে যে কৌশল নিয়েছেন পরেশ রাম দাস, তা যে কার্যকরী হতে পারে, সেই ইঙ্গিত মিলছে সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়াতেই।
সব মিলিয়ে, পয়লা বৈশাখের সকালে ক্যানিং বাজারে তৃণমূল প্রার্থীর এই অভিনব প্রচার নিঃসন্দেহে নির্বাচনী লড়াইয়ে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখন দেখার, এই জনসংযোগ কতটা ভোটবাক্সে প্রতিফলিত হয়।