বৃহস্পতিবার সকালে বাসন্তীর আমঝাড়া পোল এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য। তৃণমূলের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগে চড়ছে উত্তাপ।

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : নির্বাচনের প্রাক্কালে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল বাসন্তী বিধানসভা। বিজেপি প্রার্থী বিকাশ সর্দারের প্রচারে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার সকালে বাসন্তীর আমঝাড়া পোল এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সকালে বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা প্রার্থী বিকাশ সর্দারের সমর্থনে এলাকায় দলীয় পতাকা টাঙানোর কাজ করছিলেন। সেই সময় আচমকাই একদল দুষ্কৃতী সেখানে উপস্থিত হয়ে বিজেপি কর্মীদের বাধা দেয় বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং এরপরই বিজেপি কর্মীদের উপর হামলা চালানো হয় বলে দাবি দলের পক্ষ থেকে। হঠাৎ এই ঘটনার জেরে এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন বিজেপি প্রার্থী বিকাশ সর্দার। তিনি পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, বাসন্তী অঞ্চলে তৃণমূল নেতা নূর ইলাহি গাজী, যিনি রাজা গাজী নামে পরিচিত, তাঁর নেতৃত্বেই এই হামলা চালানো হয়েছে। শুধু এই ঘটনাই নয়, গোটা বাসন্তী বিধানসভা জুড়েই পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বিকাশ সর্দার বলেন, “আমাদের কর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রচার চালাচ্ছিলেন। কিন্তু তৃণমূলের আশ্রিত দুষ্কৃতীরা এসে হামলা চালায়। এটা গণতন্ত্রের পক্ষে অত্যন্ত বিপজ্জনক। সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে ভোট প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে।” তিনি আরও দাবি করেন, অবিলম্বে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে হবে এবং প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা নিতে হবে।
এই ঘটনার পর নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও জানান বিজেপি প্রার্থী। তিনি বলেন, পুরো বিষয়টি কমিশনের কাছে লিখিতভাবে জানানো হবে এবং সুষ্ঠু তদন্তের দাবি তোলা হবে। পাশাপাশি এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবিও তোলেন তিনি, যাতে ভোটের আগে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকে।
অন্যদিকে, এই অভিযোগ নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। যদিও রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটের আগে এই ধরনের অভিযোগ-প্রত্যাঘাত নতুন নয়। তবে এই ঘটনা বাসন্তী বিধানসভায় রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিল বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।
ঘটনার পর এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে টহলদারি বাড়ানো হয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনও চাপা উত্তেজনা রয়েছে।
ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই বাসন্তীতে রাজনৈতিক সংঘর্ষ ও পারস্পরিক অভিযোগের মাত্রা বাড়ছে। ফলে নির্বাচনের আগে পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, সেদিকেই এখন নজর সবার।