চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগে ফের হরমুজে কড়াকড়ি ইরানের, তেল সরবরাহে নতুন আশঙ্কা!

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : এক দিনের মধ্যেই অবস্থান বদল করল তেহরান। হরমুজ প্রণালী ‘সম্পূর্ণ খোলা’ রাখার ঘোষণা করার পরই ফের সেই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে কড়াকড়ি জারি করে দিল ইরান। আমেরিকার বিরুদ্ধে চুক্তিভঙ্গের অভিযোগ তুলে শনিবার ইরানের সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি আবার ‘কঠোর নিয়ন্ত্রণে’ আনা হয়েছে।
ইরানের সামরিক কমান্ড এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, ওয়াশিংটন প্রতিশ্রুতি ভেঙে ইরানের বন্দরগামী জাহাজগুলির উপর নৌ অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছে। সেই কারণেই হরমুজ প্রণালীতে আগের মতোই নিয়ন্ত্রণ জারি রাখা হয়েছে। বিবৃতিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, “ইরানে যাতায়াতকারী সমস্ত জাহাজের অবাধ চলাচল পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি কঠোর নিয়ন্ত্রণেই থাকবে।”
উল্লেখযোগ্যভাবে, মাত্র এক দিন আগেই লেবাননে যুদ্ধবিরতির আবহে তেহরান ঘোষণা করেছিল যে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়ে দেন, ইরানের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত আমেরিকার নৌ অবরোধ ‘পূর্ণ শক্তিতে’ বহাল থাকবে। তারপরই ইরানের এই অবস্থান বদল।
বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবাহিত হয়। গত দু’মাস ধরে সংঘাতের জেরে প্রণালী কার্যত অচল থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ও সরবরাহে বড়সড় প্রভাব পড়েছে। নতুন করে কড়াকড়ি জারি হওয়ায় সেই উদ্বেগ আবার বাড়তে শুরু করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এরই মধ্যে কিছুটা স্বস্তির খবরও মিলেছে। শনিবার আংশিকভাবে নিজেদের আকাশপথ খুলে দিয়েছে ইরান। দেশের পূর্বাংশের আকাশসীমা দিয়ে আন্তর্জাতিক উড়ান চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সে দেশের অসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি কয়েকটি বিমানবন্দরও নির্দিষ্ট সময় থেকে চালু করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েলের হামলা দিয়ে যে সংঘাতের সূত্রপাত, তাতে ইতিমধ্যেই ব্যাপক প্রাণহানি হয়েছে। ইরানে প্রায় ৩ হাজার, লেবাননে ২,২৯০-র বেশি, ইজরায়েলে ২৩ জন এবং উপসাগরীয় আরব দেশগুলিতে এক ডজনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গিয়েছে। নিহত হয়েছেন ১৩ জন মার্কিন সেনা জওয়ান।
সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালী ঘিরে এই টানাপোড়েন ঘিরে আবারও অনিশ্চয়তার মেঘ আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও অর্থনীতিতে।