বিভিন্ন যুদ্ধাভিযান, মেরিটাইম সিকিউরিটি, এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় ব্যবহৃত হয় USS আব্রাহাম লিংকন।

শ্রেয়সী বল, সাংবাদিক : বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম যুদ্ধজাহাজ USS আব্রাহাম লিংকন। এই জাহাজে ২১ দিন পর একই খাবার রিপিট হয়। পশ্চিম এশিয়ার উত্তপ্ত আবহ নিয়ে তো আমরা অনেক তথ্যই আপনাদের দিয়ে থাকি। আজ এই যুদ্ধের মধ্যেই এক মজার তথ্য আপনাদের দেব।
USS আব্রাহাম লিংকন হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর পঞ্চম নিমিৎজ-শ্রেণীর পারমাণবিক চালিত বিমানবাহী রণতরী, যা ১৯৮৯ সাল থেকে সক্রিয় রয়েছে। এবার ভাবছেন তো নিমিৎজ বিষয়টা কি।নিমিৎজ-শ্রেণি বা Nimitz-class হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীতে ব্যবহৃত ১০টি পারমাণবিক শক্তিচালিত সুপারক্যারিয়ার বা বিশাল বিমানবাহী রণতরীর একটি শ্রেণি। আগেই বলেছি আব্রাহাম লিঙ্কন বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম যুদ্ধজাহাজ এবং ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগোতে এর হোম পোর্ট। এটি বিভিন্ন যুদ্ধাভিযান, মেরিটাইম সিকিউরিটি, এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় ব্যবহৃত হয়। মার্কিন নৌবাহিনীর এই শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ একটি কঠোর ২১-দিনের চক্র অনুসরণ করে, যেখানে প্রতি তিন সপ্তাহ পর পর একই খাবারের পুনরাবৃত্তি করা হয়।

বিমানবাহী রণতরীটি প্রতিদিন প্রায় ৫,১০০ জন নাবিক ও বিমানকর্মীকে খাবার সরবরাহ করে। ১৭,৩০০ টিরও বেশি প্লেট সার্ভ করে।মার্কিন নৌবাহিনীর মতো জাহাজগুলো নির্দিষ্ট সময় অন্তর রসদ সরবরাহের ওপর নির্ভর করে। একটি পূর্বানুমানযোগ্য চক্রের ভিত্তিতে খাদ্যের অর্ডার দেওয়া হয়, তা সংরক্ষণ ও বণ্টন করা হয়। প্রতি ৭ থেকে ১০ দিন অন্তর, সহায়ক জাহাজ বা বিমান বিপুল পরিমাণ খাদ্য সরবরাহ করে, যার পরিমাণ কখনও কখনও ৩,১৭,০০০ কেজি পর্যন্ত হয়। যেহেতু খাদ্যের তালিকা নির্দিষ্ট থাকে, তাই নৌবাহিনী সঠিকভাবে জানে কোন কোন জিনিস এবং কী পরিমাণে প্রয়োজন।২১ দিনের একটি চক্র মজুদের সীমাবদ্ধতা এবং পুনঃপূরণের সময়সূচির সাথে ভালোভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে, পচনশীল ও ফ্রোজেন সামগ্রীকে সতর্কতার সাথে আবর্তন করা হয়।

যেহেতু বিমানবাহী রণতরীগুলোতে সমুদ্রে নির্দিষ্ট বিরতিতে রসদ সরবরাহ করা হয়, তাই একটি পুনরাবৃত্তিমূলক তালিকা পরিকল্পনাকারীদের প্রতিটি চক্রের জন্য ঠিক কী পরিমাণ খাদ্য প্রয়োজন তা অনুমান করতে সাহায্য করে। এটি তাদের সীমিত সংরক্ষণ স্থানের ব্যবস্থাপনায় ও খাদ্য অপচয় এড়াতে সহায়তা করে এবং একই সাথে প্রত্যেক নাবিকের যথাযথ পুষ্টি নিশ্চিত করে।একই সঙ্গে, খাবার কোনো অতিরিক্ত আয়োজন থাকে না। কেননা সমুদ্রে দীর্ঘ সময় অবস্থানকালে নাবিকদের সুস্থ রাখার জন্য তা সতর্কভাবে পরিকল্পনা করা হয়। মেনুটি সঠিক পরিমাণে শক্তি সরবরাহ করার জন্য তৈরি করা হয়েছে – পুরুষদের জন্য প্রতিদিন প্রায় ২,৮৫০ ক্যালোরি এবং মহিলাদের জন্য প্রায় ২,১০০ ক্যালোরি।আগেকার মতো প্রায় ১,২০০টি ভিন্ন ভিন্ন উপাদান মজুত করার পরিবর্তে, মার্কিন নৌবাহিনী এখন প্রায় ৫০০টি মূল উপাদান ব্যবহার করে। আগে নৌবাহিনী ৩৫ দিনের একটি দীর্ঘ খাদ্যতালিকা অনুসরণ করত, কিন্তু ২১ দিনে পরিবর্তন করায় কার্যক্রম আরও বেশি কার্যকর হয়েছে। চর্বি, সোডিয়াম এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদানসহ পুষ্টির বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়।
জাহাজের রান্নাঘরগুলো কখনো বন্ধ হয় না। এগুলো ২৪X৭ চালু থাকে, কারণ নাবিকরা বিভিন্ন শিফটে কাজ করে। সাধারণ খাবারের পাশাপাশি ‘মিদ্রাত’ বা মধ্যরাতের রেশন-এরও ব্যবস্থা থাকে, যা হলো রাতের বেলায় ডিউটিতে থাকা নাবিকদের জন্য পরিবেশিত একটি বিশেষ খাবার। প্রচুর পরিমাণে খাবার প্রস্তুত করার জন্য বড় বড় ওভেন এবং বিশাল রান্নার পাত্র ব্যবহার করা হয়।তবে, সম্প্রতি এমন খবর পাওয়া গেছে যে, হরমুজ প্রণালীর কাছে কর্মরত মার্কিন নৌবাহিনীর দুটি জাহাজ, ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন এবং ইউএসএস ত্রিপোলি, খাদ্য সংকটের সম্মুখীন হয়েছে।আর্ন্তজাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর, প্রায় খালি একটি খাবারের ট্রে-র ছবি প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে কেবল সামান্য পরিমাণে কুচি করা মাংস ও একটি টরটিয়া ছিল। তবে, মার্কিন নৌবাহিনী এই দাবি অস্বীকার করেছে।