শাহী প্রতিশ্রুতিতেই আস্থা বিমলের !

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে কি সমীকরণ বদলাচ্ছে পাহাড়ে ?

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : দার্জিলিং পাহাড়ের রাজনীতিতে নতুন মোড়ের ইঙ্গিত দিলেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার নেতা বিমল গুরুং (Bimal Gurung)। মঙ্গলবার তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, পাহাড়ে বিজেপির দিকে ঝুঁকছে জিজেএম। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর (Amit Shah) সাম্প্রতিক বার্তার পরই এই অবস্থান আরও দৃঢ় হয়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

প্রসঙ্গত, গত ১৫ এপ্রিল ভার্চুয়াল ভাষণে শাহ দার্জিলিং-সহ গোর্খা অধ্যুষিত অঞ্চলের দীর্ঘদিনের সমস্যার সাংবিধানিক সমাধানের আশ্বাস দেন। পাশাপাশি, আন্দোলন ঘিরে দায়ের হওয়া ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ মামলাগুলি প্রত্যাহারের কথাও বলেন তিনি। সেই বক্তব্যকে ‘প্রত্যাশার থেকেও বেশি’ বলে মন্তব্য করেছেন গুরুং।

একই সঙ্গে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি জিজেএম প্রধান। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) বিরুদ্ধে তাঁর অভিযোগ, পাহাড়ের সমস্যা সমাধানে একাধিকবার বৈঠকের ডাক দেওয়া হলেও তিনি সাড়া দেননি। গুরুংয়ের দাবি, ‘‘আমরা তিনবার বৈঠকের জন্য ডেকেছিলাম, কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী আসেননি।’’

গোর্খা ইস্যু দীর্ঘদিন ধরেই দার্জিলিং রাজনীতির কেন্দ্রে। পৃথক রাজ্যের দাবি থেকে শুরু করে প্রশাসনিক স্বশাসনের প্রশ্ন—এই সব বিষয় নিয়েই বারবার আন্দোলন হয়েছে পাহাড়ে। সেই প্রেক্ষাপটে শাহের ‘পার্মানেন্ট পলিটিক্যাল সলিউশন’ বা স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানের প্রতিশ্রুতি নতুন করে আশা জাগিয়েছে বলে মনে করছে জিজেএম।

গুরুং জানান, মামলার জটিলতা থাকলেও কেন্দ্রের এই স্পষ্ট অবস্থান তাঁদের সংগঠনকে আরও কার্যকর ভাবে এগোতে সাহায্য করবে। তাঁর কথায়, ‘‘ওঁরা সমাধানের কথা বলছেন। বিজেপি সরকার গড়বে—তাই এখন আর তৃণমূলের সঙ্গে আলোচনার প্রয়োজন কী?’’

রাজ্যের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে এই অবস্থান বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকায় জিজেএমের প্রভাব এখনও যথেষ্ট। ফলে তাদের সমর্থন যে কোনও দলের পক্ষে বড় রাজনৈতিক সুবিধা এনে দিতে পারে।

২০২১ সালের নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এলেও বিজেপি ৭৭টি আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে উঠে আসে। সেই পরিস্থিতিতে ২০২৬-এর ভোটে পাহাড়ের সমীকরণ বড় ভূমিকা নিতে পারে বলেই রাজনৈতিক মহলের মত।

আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দু’দফায় ভোটগ্রহণ এবং ৪ মে ফলপ্রকাশ। তার আগে দার্জিলিংয়ে জিজেএম-বিজেপি ঘনিষ্ঠতা রাজ্যের নির্বাচনী অঙ্কে নতুন মাত্রা যোগ করল বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।