গাড়ি ভাঙচুরের পাশাপাশি আইএসএফ কর্মী-সমর্থকদেরও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : ভোটের আগে ফের উত্তপ্ত দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং পূর্ব। রাজনৈতিক ময়দানে যখন প্রচারের তাপ ক্রমশ বাড়ছে ঠিক সেই সময় রণক্ষেত্রের চেহারা নিল দেউলী এলাকা। নির্বাচনী প্রচারে যাওয়ার পথে আইএসএফ প্রার্থী আরাবুল ইসলামের গাড়িতে হামলার অভিযোগ ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। মঙ্গলবার সকালে ক্যানিং পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের দৈউলী ১ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় প্রচারে যাচ্ছিলেন আরাবুল। অভিযোগ, সেই সময় আচমকাই একদল দুষ্কৃতী তাঁর গাড়ির পথ আটকে হামলা চালায়। বাঁশ, লাঠি ও বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে গাড়ির ওপর চড়াও হয় বলে অভিযোগ। মুহূর্তের মধ্যে গাড়ির সামনের ও পাশের কাচ ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। হামলার সময় গাড়ির মধ্যেই ছিলেন আরাবুল ইসলাম। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠতেই তাঁকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যান দলীয় কর্মীরা।
এই ঘটনার ছবি ধরা পড়েছে ক্যামেরায়। সেখানে দেখা যায়, একাধিক ব্যক্তি হাতে বাঁশ ও লাঠি নিয়ে গাড়িতে আঘাত করছে। হামলাকারীদের মধ্যে কয়েকজন মহিলা ছিলেন বলেও দাবি করা হয়েছে। গাড়ি ভাঙচুরের পাশাপাশি আইএসএফ কর্মী-সমর্থকদেরও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। হঠাৎ এই হামলায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রচারে আসা বহু কর্মী-সমর্থক ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার পর ক্ষোভে ফেটে পড়েন আইএসএফ কর্মীরা। প্রতিবাদে বাসন্তী হাইওয়ে অবরোধ করে বিক্ষোভে সামিল হন তাঁরা। রাস্তার উপর বসে স্লোগান দিতে থাকেন কর্মীরা। অবরোধের জেরে গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং সাধারণ মানুষও ভোগান্তির মুখে পড়েন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন আরাবুল ইসলাম ও তাঁর ছেলে হাকিমুল ইসলামও। বিক্ষোভকারীদের দাবি, অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেফতার করতে হবে এবং বিরোধী প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আরাবুল ইসলাম। তাঁর অভিযোগ, ক্যানিং পূর্বে বিরোধী প্রার্থীদের ভোট করতে দেওয়া হয় না। যাঁরা প্রার্থী হন তাঁদের ওপর ধারাবাহিকভাবে হামলা চালানো হয়। তিনি বলেন, এতদিন অন্যদের অভিযোগ শুনে বিশ্বাস করেনি কিন্তু নিজের উপর হামলার পর সবকিছু পরিষ্কার হয়ে গেল। তাঁর আরও দাবি, তাঁকে খুনের চেষ্টা করা হয়েছে এবং হামলাকারীদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো অস্ত্র ছিল।
অন্যদিকে, এই বিষয়ে ক্যানিং পূর্বের বিদায়ী বিধায়ক তথা ভাঙড়ের তৃণমূল প্রার্থী শওকত মোল্লা এই ঘটনায় পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, উনি সমাজবিরোধী। নোংরা খেলা খেলছেন ব়্যালি করার নাম করে। আমরা তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা তীব্র হয়েছে। ঘটনার খবর পেয়ে এলাকায় পৌঁছয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ প্রশাসনের তরফে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলা হয়। দীর্ঘক্ষণ আলোচনার পর অবরোধ তুলে নেওয়া হয় এবং ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয় যান চলাচল। তবে এলাকায় এখনও চাপা উত্তেজনা রয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই হামলার সঙ্গে কারা জড়িত তা খোঁজার চেষ্টা চলছে। নির্বাচনের মুখে ক্যানিং পূর্বে এই হামলার ঘটনায় ফের প্রশ্নের মুখে প্রশাসন। এখন দেখার বিষয় এই হামলার সঙ্গে যারা জড়িত তাঁদের উপযুক্ত শাস্তি মেলে কি না। না হলে ভোটের আবহে এমন ঘটনা ঘটতে থাকবেই।