লড়াইয়ের প্রথম সারিতে রয়েছে বিজেপি, তৃণমূল, কংগ্রেস, আইএসএফ। মূল লড়াই হতে চলেছে ঘাসফুল ও পদ্মফুলের।

শ্যাম বিশ্বাস, নিজস্ব সংবাদদাতা : ২৩ ও ২৯ এপ্রিল রাজ্যে ভোটগ্রহণ। বৈশাখের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তপ্ত হচ্ছে নির্বাচনী আবহ। নির্বাচনী প্রচারে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে নারাজ প্রধান রাজনৈতিক দলগুলি। ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় পর্বে হাড়োয়া বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। লড়াইয়ের প্রথম সারিতে রয়েছে বিজেপি, তৃণমূল, কংগ্রেস, আইএসএফ। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মূল লড়াই হতে চলেছে ঘাসফুল ও পদ্মফুলের।
উঃ ২৪ পরগনার রাজনাতিক ইতিহাস ঘাটলে সেখানে জ্বলজ্বল করে শাসন এলাকার একজন দোর্দণ্ডপ্রতাপ প্রাক্তন সিপিআইএম নেতা আব্দুল মজিদ বা মজিদ মাস্টারের নাম। একসময় ‘শাসন সন্ত্রাসের’ হোতা হিসেবে তার বিরুদ্ধে প্রচুর অভিযোগ ছিল। ২০১১ সালে বাম আমলের শেষ দিকে তিনি গ্রেফতার হন। একসময় ‘লাল শিবিরের দাপুটে মুখ’ মজিদ মাস্টারের গ্রেফতারের দাবিতে সরব ছিল তৃণমূল। এবার সেই মজিদ মাস্টারের বাড়িতেই ফুল হাতে ঢুকে ভোট চাইলেন হাড়োয়ার তৃণমূল প্রার্থী আবদুল মাতিন। রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোট ময়দানে যখন বাগযুদ্ধ, সংঘাতই স্বাভাবিক সেখানে তৃণমূল প্রার্থীর অন্য দলের প্রবীণ নেতার প্রতি এই সৌজন্যতা চতুর রণকৌশলের নিদর্শন।
বঙ্গ রাজনীতিতে সব রাজনৈতিক দলের নজরেই সংখ্যালঘু ভোট। বর্তমানে তার সাথে সংযোজিত হয়েছে মহিলা ভোটব্যাঙ্ক। তৃণমূল নেত্রী মততা বন্দোপাধ্যায় রূপশ্রী, কন্যাশ্রী, লক্ষীর ভান্ডারের মতো একাধিক নারী উন্নয়নমূলক প্রকল্প করে মহিলাদের মন জয় করে নিয়েছেন। এবার সেই পথে হেঁটে মহিলা সমর্থন আদায়ে জোর দিচ্ছে বিজেপিও। সঙ্কল্পপত্রে মহিলাদের ৩ হাজার টাকা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। হাড়োয়া বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচনী প্রচারে মহিলা সুরক্ষার বিষয়টিকেই সামনে আনলেন একসময় প্রতিবাদী আন্দোলনের মুখ তথা বিজেপি প্রার্থী ভাস্কর মন্ডল। শুধু নিরাপত্তা নয়, মহিলাদের জন্য একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্প চালু করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
হাড়োয়া বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্রের অর্ন্তগত সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের একটি। এই বিধানসভা কেন্দ্রটি বারাসত–২ ব্লকের চারটি, দেগঙ্গা ব্লকের চারটি এবং হাড়োয়া ব্লকের চারটি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত। এটি একটি মুসলিম-অধ্যুষিত এবং সম্পূর্ণ গ্রামীণ কেন্দ্র। ১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ২০২৪ সালের উপনির্বাচন-সহ মোট ১৮টি বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে হাড়োয়াতে। এই কেন্দ্রটি বরাবরই রাজনৈতিকভাবে পরিবর্তনশীল থেকেছে এবং সময়ে সময়ে বিভিন্ন দলের প্রতি সমর্থন বদলেছে। প্রাথমিক দশকগুলিতে এটি কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি ছিল। পরবর্তী সময়ে এটি সিপিএমের দুর্গে পরিণত হয়। তবে ২০১১ সালে রাজ্যে ৩৪ বছরের বামফ্রন্ট শাসনের অবসানের পর থেকে শাসক তৃণমূল কংগ্রেস এই কেন্দ্রে শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছে। ২০১১ সাল থেকে হাড়োয়া বিধানসভা কেন্দ্রে একছত্র অধিকার বজায় রেখেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তবে সম্প্রতি গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ও নির্বাচনের আগে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন না হওয়া সহ একাধিক অভিোগে বিদ্ধ শাসকদল। অন্যদিকে নারী উন্নয়ন ও সুরক্ষা এই দুই ইস্যুকে হাতিয়ার করলেও হাড়োয়ায় ফ্যাক্টর মুসলিম ভোট। ভোট রাজনীতিতে এসআইআরকে কেন্দ্র করে বেছে বেছে সংখ্যালঘুদের নাম কাটার অভিযোগ উঠেছে। সব মিলিয়ে হাড়োয়ার মাটিতে কোন ফুল ফুটবে তা স্পষ্ট হবে আগামী ৪ঠা মে।