“২০২৬-এর ভোট হবে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ”

সিসিটিভি-লাইভ স্ট্রিমিংয়ে নজরদারির ঘোষণা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালের।

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : রাজ্যে আসন্ন শেষ দফার নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে তৎপরতা তুঙ্গে তুলল নির্বাচন কমিশন। ভোটের প্রস্তুতি ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে রবিবার কাকদ্বীপ সফর করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) মনোজ কুমার আগরওয়াল।
​এদিন কাকদ্বীপ মহকুমা শাসক কার্যালয়ে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে যোগ দেন তিনি। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা শাসক, সুন্দরবন পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার-সহ নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক আধিকারিকরা। নির্বাচনের সময় যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং ভোটারদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে কমিশন যে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে, তা এদিনের বৈঠকে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়। ​প্রশাসনিক বৈঠকের পাশাপাশি মনোজ কুমার আগরওয়াল এলাকার সমস্ত রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও তাঁদের নির্বাচনী এজেন্টদের সঙ্গেও সরাসরি কথা বলেন। সূত্রের খবর, কোনো ধরণের প্ররোচনা বা অশান্তি যাতে নির্বাচনের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট না করে, সে বিষয়ে কড়া বার্তা দেন তিনি। বৈঠক শেষে তিনি জানান, ​”আজ কাকদ্বীপ মহকুমার সমস্ত প্রার্থী এবং এজেন্টের সঙ্গে কথা বললাম। পাশাপাশি শেষ দফার ভোট প্রস্তুতি খতিয়ে দেখলাম। সবাইকে অনুরোধ করেছি অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সুনিশ্চিত করতে।” ​মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক স্পষ্ট জানান যে, ২০২৬-এর এই নির্বাচনে ভোট জালিয়াতি বা ভোটারদের হুমকি দেওয়ার মতো ঘটনা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। প্রতিটি বুথ থেকে আসা অভিযোগের ভিত্তিতে তৎক্ষণাৎ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান প্রতিটি বুথে সিসিটিভি ক্যামেরা এবং লাইভ স্ট্রিমিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে।
​কোনো অভিযোগ পাওয়া মাত্রই দ্রুত অ্যাকশন নেবে কমিশন।
​পাশাপাশি তিনি বলেন, কাকদ্বীপ এলাকায় সাধারণত ৭০ থেকে ৮২ শতাংশ ভোট পড়ে। এবার সেই লক্ষ্যমাত্রা ৯০ শতাংশের ওপরে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
​মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক সাধারণ ভোটারদের আশ্বস্ত করে জানান, নির্ভয়ে এবং নির্বিঘ্নে যেন সবাই নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। সব মিলিয়ে, শেষ দফার এই ‘মহাযুদ্ধের’ আগে কাকদ্বীপে প্রশাসনিক তৎপরতা এখন তুঙ্গে। কমিশনের এই কড়া অবস্থানে সাধারণ মানুষের মনে নিরাপত্তা বোধ ফিরে আসবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।