আক্রান্ত মিতালিকে দেখতে হাসপাতালে অভিষেক

“একজন নির্বাচিত মহিলা সাংসদের উপর প্রকাশ্যে এই ধরনের হামলা গণতন্ত্রের উপর আঘাত।”

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : আরামবাগে তৃণমূল প্রার্থী তথা সাংসদ মিতালি বাগের ওপর হামলার অভিযোগ ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়াল সোমবার। ঘটনায় আহত মিতালি বাগকে দেখতে আরামবাগ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যান তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আবহে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে তরজা চরমে উঠেছে।

তৃণমূলের অভিযোগ, আরামবাগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসভায় যোগ দিতে যাওয়ার পথে মিতালি বাগের গাড়ির উপর হামলা চালায় বিজেপি-সমর্থিত দুষ্কৃতীরা। হামলায় গাড়ির কাঁচ ভেঙে যায় এবং সেই কাঁচের টুকরোয় আহত হন তিনি। দলের তরফে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন মিতালি। তৃণমূল এই ঘটনাকে ‘পরিকল্পিত হামলা’ বলে দাবি করেছে।

দলের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সম্প্রতি এক সভা থেকে তৃণমূল কর্মী-নেতাদের হুমকি দিয়েছিলেন, আর তারই প্রতিফলন এই হামলা। তৃণমূলের বক্তব্য, “একজন নির্বাচিত মহিলা সাংসদের উপর প্রকাশ্যে এই ধরনের হামলা গণতন্ত্রের উপর আঘাত।” বিশেষ করে তফসিলি জাতিভুক্ত এক মহিলা প্রতিনিধির উপর আক্রমণকে আরও গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরছে তৃণমূল কংগ্রেস।

যদিও এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি। তাদের দাবি, গোটা ঘটনাই রাজনৈতিক নাটক, সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা ছাড়া কিছু নয়। বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্বের বক্তব্য, নির্বাচনের আগে ইস্যু তৈরির জন্যই তৃণমূল এই ধরনের অভিযোগ করছে।

আরামবাগ বিধানসভা কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন বামেদের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। ২০১১ সালের পরপর দু’বার সেখানে জয়ী হয় তৃণমূল, কিন্তু ২০২১ সালে বিজেপি প্রার্থী মধুসূদন বাগ সেই আসন দখল করেন। এবার সেই আসনে তৃণমূলের প্রার্থী মিতালি বাগের বিরুদ্ধে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন হেমন্ত বাগ। পাশাপাশি সিপিএম প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন বিতিকা পণ্ডিত।

আগামী ২৯ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ। তার আগে এই হামলার ঘটনায় রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠল। এই পরিস্থিতিতে ভোটের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখাটাই কমিশনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।