সংবাদসংস্থা আইআরএনএ-কে আরাঘচি জানিয়েছেন, পাকিস্তানে তাঁর আলোচনার মূল বিষয় ছিল, কোন শর্তে ইরান-আমেরিকা সংলাপ ফের শুরু হতে পারে।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে টানাপোড়েনের আবহে কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার করল তেহরান। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সম্প্রতি পাকিস্তান সফরের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে একাধিক ‘রেড লাইন’ বা সীমারেখা স্পষ্ট করে বার্তা পাঠিয়েছেন বলে দাবি ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত্ব সংবাদমাধ্যম ফার্সের।
সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বার্তাগুলির মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল ইরানের পারমাণবিক নীতি এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী। যদিও ফার্স জানিয়েছে, এই বার্তা আদানপ্রদান সরাসরি ইরান-আমেরিকা আলোচনার অংশ নয়, বরং বর্তমান পরিস্থিতিতে তেহরানের অবস্থান স্পষ্ট করার উদ্দেশ্যেই তা পাঠানো হয়েছে।
পাকিস্তান সফরের পর বর্তমানে রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে রয়েছেন আরাঘচি। সেখানে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা। এর আগে পাকিস্তান ও ওমান—এই দুই দেশের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে টানা আলোচনা করেন তিনি। ইরানের সরকারি সংবাদসংস্থা আইআরএনএ-কে আরাঘচি জানিয়েছেন, পাকিস্তানে তাঁর আলোচনার মূল বিষয় ছিল, কোন শর্তে ইরান-আমেরিকা সংলাপ ফের শুরু হতে পারে।
অন্যদিকে, ওয়াশিংটনের অবস্থান এখনও কঠোর। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি পাকিস্তানে তাঁর বিশেষ দূতদের সফর বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছেন। তাঁর মন্তব্য, “ইরান চাইলে ফোন করেই আলোচনা শুরু করতে পারে।” তবে একইসঙ্গে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, চলমান সংঘাত দ্রুতই শেষ হতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে নতুন এক কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে তেহরান। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের দাবি, ওই প্রস্তাবে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া এবং যুদ্ধের অবসান ঘটানোর একটি রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে, এটি একটি ‘দু’ধাপের পরিকল্পনা’, যেখানে প্রথমে সামুদ্রিক অবরোধ তুলে নেওয়া ও চলাচল স্বাভাবিক করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতি বা স্থায়ী শান্তির দিকে এগোনোর চেষ্টা করা হবে। তার পরবর্তী পর্যায়ে পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা শুরু হতে পারে। যদিও হোয়াইট হাউস এই প্রস্তাব পেয়েছে বলে জানানো হয়েছে, তা নিয়ে তারা কতটা এগোতে আগ্রহী, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
বর্তমানে হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে ইরানের কৌশলগত অবস্থান এবং মার্কিন নৌ অবরোধ—দুই মিলিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা বাড়ছে। তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি এবং বৈশ্বিক উদ্বেগের আবহে দুই দেশের মধ্যে দূরত্ব এখনও অনেকটাই রয়ে গিয়েছে বলেই মনে করছে কূটনৈতিক মহল।