ভাইরাল দাবাং অফিসারের নাচ, তোলপার রাজনীতি!

তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে স্বল্পবসনা নারীর সঙ্গে নাচছেন ওই অফিসার!

মাম্পি রায়, সাংবাদিক: দ্বিতীয় দফার ভোটের মুখে রাজ্যের রাজনীতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠল উত্তরপ্রদেশের ‘এনকাউন্টার স্পেশ্যালিস্ট’ হিসেবে পরিচিত আইপিএস অফিসার অজয় পাল শর্মাকে ঘিরে। তাঁকে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ করেছে নির্বাচন কমিশন। এই অজয় পাল শর্মার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তাঁকে ঘিরে বিতর্ক যেন বেড়েই চলেছে।

ঘটনার সূত্রপাত একটি ভাইরাল ভিডিওকে কেন্দ্র করে। সোমবার প্রকাশ্যে আসা ওই ভিডিওতে দেখা যায়, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে ফলতায় তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের বাড়ির কাছে গিয়ে কড়া ভাষায় সতর্ক করছেন অজয় পাল শর্মা। ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, কোনও ধরনের ঝামেলা বরদাস্ত করা হবে না, এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যা ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। যদিও ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করেনি আরপ্লাস নিউজ।

এই ঘটনার পরই শাসকদল তৃণমূলের তরফে প্রশ্ন তোলা হয় পর্যবেক্ষকের ভূমিকা নিয়ে। তাঁদের অভিযোগ, তিনি তাঁর এক্তিয়ারের বাইরে গিয়ে আচরণ করছেন এবং ভোটের আগে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছেন। পাল্টা জাহাঙ্গির খানও মন্তব্য করেন, “ওঁরা যদি ‘সিংঘম’ হন, আমরাও ‘পুষ্পা’”—ইঙ্গিত স্পষ্ট, চাপের কাছে নতিস্বীকার নয়।

এই আবহেই নতুন করে বিতর্ক উস্কে দেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করেন, যেখানে এক ব্যক্তিকে নর্তকীদের সঙ্গে দেখা যাচ্ছে। দাবি করা হচ্ছে, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি ওই আইপিএস অফিসার। সঙ্গে কটাক্ষ করে মহুয়া লেখেন, পুলিশি দক্ষতার চেয়ে তাঁর নাচের দক্ষতা কেমন, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। যদিও এই ভিডিওর সত্যতাও যাচাই করা হয়নি।

বিতর্কে যোগ দেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবও। তিনি এই ধরনের ভিডিও সামনে আসাকে উত্তরপ্রদেশের ভাবমূর্তির জন্য লজ্জাজনক বলে উল্লেখ করেন এবং মহিলাদের প্রতি অসম্মানের অভিযোগ তোলেন।

অন্যদিকে, বিজেপি শিবির সম্পূর্ণ ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে। তাঁদের মতে, অপরাধ দমনে কঠোর পদক্ষেপই প্রয়োজন। বিজেপির এক নেতা সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে এমন দৃঢ় মনোভাব জরুরি।

সব মিলিয়ে, ভোটের ঠিক আগে এক পুলিশ আধিকারিককে কেন্দ্র করে এই টানাপড়েন রাজ্যের রাজনৈতিক আবহকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। এখন নজর নির্বাচন কমিশনের দিকে—এই বিতর্কে তারা কী পদক্ষেপ নেয়, সেটাই দেখার।