তৃণমূল কাউন্সিলরের ঘরে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের হেনস্থা করা হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক: বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ ঘিরে বিস্ফারক অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর। ভবানীপুরের তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) অভিযোগ করেন, বাইরে থেকে আনা পর্যবেক্ষক এবং রাজ্যের সঙ্গে অপরিচিত পুলিশ আধিকারিকদের ব্যবহার করে তৃণমূল কর্মীদের টার্গেট করা হচ্ছে।
ভোটের দিন সকালেই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণই তাঁর এবং তাঁর দলের কাম্য। কিন্তু বাস্তবে তার বিপরীত চিত্র উঠে আসছে। তৃণমূল সুপ্রিমোর অভিযোগ, বিভিন্ন জেলা থেকে আসা পর্যবেক্ষকরা থানায় গিয়ে চাপ সৃষ্টি করছেন এবং তৃণমূলের পোলিং এজেন্টদের গ্রেফতারের নির্দেশ দিচ্ছেন। তাঁর আরও অভিযোগ, “আমি সারা রাত জেগেছিলাম। বাইরে থেকে আসা কিছু অফিসার গোটা বাংলায় অশান্তি তৈরি করার চেষ্টা করছেন।”
বুধবার সকালে তৃণমূলের যুব ব্লক সভাপতির গ্রেফতারির অভিযোগ তুলে চেতলায় যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও তিনি নিজে থানায় যাননি বলে জানান, তবে দলের কর্মীরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। আরও গুরুতর অভিযোগ এনেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, মঙ্গলবার গভীর রাতে তাঁর দলের এক কাউন্সিলরের বাড়িতে হানা দেয় সিআরপিএফ (Central Reserve Police Force)। স্থানীয় পুলিশকে নিয়ে যাননি তাঁরা। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ , রাত দেড়টা নাগাদ ওই বাহিনী বাড়িতে ঢুকে কাউন্সিলরের পরিবারকে হেনস্থা করে। বাড়িতে সেই সময় ওই কাউন্সিলরের স্ত্রী ও সন্তান ছিলেন। কাউন্সিলর বাড়িতে নেই জানানো সত্ত্বেও পরিবারের সদস্যদের উপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় এবং ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। পাশাপাশি রাজনৈতিক কার্যকলাপ থেকে দূরে থাকার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী।

যদিও এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি নির্বাচন কমিশন।
দক্ষিণবঙ্গ ও কলকাতার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ভোট হওয়ায় এই দফাকে রাজনৈতিক মহল ‘লিটমাস টেস্ট’ হিসেবে দেখছে। ফল প্রকাশ হবে ৪ মে—সেই দিনই স্পষ্ট হবে, এই অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের লড়াই ভোটবাক্সে কতটা প্রভাব ফেলে।