ভোটের ফল নিয়ে দুই শিবিরেই প্রত্যাশা তুঙ্গে !

দ্বিতীয় দফার ভোট মিটল শান্তিপূর্ণভাবে, পাল্টা দাবিতে সরগরম বিজেপি-তৃণমূল

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : রাজ্যের দ্বিতীয় দফার নির্বাচন মোটের উপর শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করছে প্রশাসন। বড় ধরনের কোনও অশান্তি বা প্রাণহানির ঘটনা ছাড়াই ভোট প্রক্রিয়া শেষ হওয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে সাধারণ মানুষ থেকে রাজনৈতিক মহল। যদিও বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষিপ্ত কিছু ঘটনার খবর সামনে এসেছে, তবুও সামগ্রিকভাবে ভোটগ্রহণ ছিল অবাধ ও শান্তিপূর্ণ—এমনটাই দাবি শাসক ও বিরোধী দুই পক্ষেরই, যদিও ফলাফল নিয়ে উভয় শিবিরেই আলাদা আলাদা প্রত্যাশা ও দাবি শোনা যাচ্ছে।


এই প্রেক্ষাপটে যাদবপুর বিজেপি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি মনোরঞ্জন জোদ্দার দাবি করেছেন, সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়েছেন পরিবর্তনের পক্ষে। তাঁর কথায়, “কোনও রকম প্রাণহানি ছাড়াই অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট হয়েছে। মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়েছে পরিবর্তনের দাবিতে। আমরা আশাবাদী, আগামী ৪ঠা মে ফল প্রকাশের দিন রাজ্যে পরিবর্তন নিশ্চিত হবে।” তিনি আরও জানান, বিজেপির প্রতিটি কর্মী বুথ স্তর থেকে শুরু করে নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছেন, যা দলের পক্ষে ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে বলে তাঁর বিশ্বাস।
মনোরঞ্জন জোদারের বক্তব্যে স্পষ্ট, বিজেপি এই নির্বাচনে রাজ্যে ক্ষমতা পরিবর্তনের বিষয়ে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী। গত কয়েক বছর ধরে রাজ্যে নিজেদের সংগঠন শক্তিশালী করার যে প্রচেষ্টা দল চালিয়ে এসেছে, তারই প্রতিফলন এই ভোটে দেখা গিয়েছে বলেও দাবি তাঁর। বুথ ম্যানেজমেন্ট থেকে শুরু করে ভোটারদের কাছে পৌঁছনোর ক্ষেত্রে বিজেপি কর্মীদের সক্রিয় ভূমিকা এই নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে বলে মনে করছে দল।
অন্যদিকে, শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসও সমানভাবে আশাবাদী নিজেদের জয়ের বিষয়ে। বারুইপুর পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা নির্বিঘ্নেই ভোট দিয়েছেন। তাঁর দাবি, সাধারণ মানুষ উন্নয়নের পক্ষে ভোট দিয়েছেন এবং সেই কারণেই তৃণমূল কংগ্রেস চতুর্থবারের জন্য রাজ্যে ক্ষমতায় ফিরবে।
বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “কিছু ছোটখাটো ঘটনা ছাড়া ভোট শান্তিপূর্ণ হয়েছে। আমাদের কর্মী-সমর্থকেরা নির্ভয়ে ভোট দিয়েছেন। সাধারণ মানুষ উন্নয়নের পক্ষে রায় দিয়েছেন। আমরা নিশ্চিত, দিদি আবার মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন।” তাঁর এই বক্তব্যে তৃণমূল শিবিরের আত্মবিশ্বাসই ফুটে উঠেছে।
তৃণমূলের দাবি, গত এক দশকে রাজ্যে যে উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে—গ্রামীণ পরিকাঠামো, স্বাস্থ্য, শিক্ষা থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্প—সেই সব কিছুর ভিত্তিতেই মানুষ আবারও তাদের ওপর আস্থা রেখেছে। ফলে এই নির্বাচনে ফের জয়ের বিষয়ে তারা যথেষ্ট আশাবাদী।
যদিও দুই পক্ষই নিজেদের জয়ের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী, বাস্তব চিত্র স্পষ্ট হবে আগামী ৪ঠা মে ফল ঘোষণার দিনই। তবে ভোট মিটতেই রাজনৈতিক তরজা যে আরও তীব্র হবে, তা বলাই বাহুল্য।
এদিকে, নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, দ্বিতীয় দফায় অধিকাংশ বুথেই শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর নজরদারি এবং কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে বড় ধরনের কোনও অশান্তি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। ভোটারদের উপস্থিতিও ছিল সন্তোষজনক, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পক্ষে ইতিবাচক বলে মনে করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, দ্বিতীয় দফার নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ায় স্বস্তি মিললেও, রাজনৈতিক চাপানউতোর অব্যাহত রয়েছে। একদিকে পরিবর্তনের দাবি, অন্যদিকে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি—এই দুইয়ের লড়াইয়ের ফল কী দাঁড়ায়, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষা।