গণনার দিন বিজয় উৎসবের প্রস্তুতিতে জেলাজুড়ে এখন হু হু করে বিক্রি হচ্ছে লাল, সবুজ, গেরুয়া আবির।

মিলন কর্মকার, নিজস্ব সংবাদদাতা : রাতারাতি দোকানে নাকি শেষ হয়ে যাচ্ছে গেরুয়া আবির। সবুজ আবিরের বিক্রিও কম নয়। দ্বিতীয় দফার ভোট পর্ব শেষ হতেই বিক্রির প্রবনতা বেড়েছে। সময়ের আগেই ফলাফলের জানার লোভ কার না থাকে । তা সে চৌঠা মেয়েই হোক না কেনও। এক্সিট পোলের পর সাধারনের আগ্রহ এক আবিরের দোকানগুলিতে। কোন আবির বেশি বিক্রি হচ্ছে ? বিশেষ করে রাজনীতির বাইরের মানুষরা কোন রঙের দিকে ঝুঁকেছে। এই প্রশ্নের উত্তর মিললেই কেল্লাফতে। মানে ফলেফলে আগে কিছুটা আভাস পাওয়া। তাইতো আপনাদের মনের কথা বুঝে আমরা খোঁজ নিলাম বাঁকুড়ার আবিরের দোকানগুলিতে।
চায়ের দোকান থেকে ডিনার টেবিল, অফিসের ব্রেক টাইম ,বাসে-ট্রেনে যাতায়াতের সময়, স্কুল,কলেজ এমনকি রান্না ঘরের আনাচে কানাচে এখন একাটাই আলোচনা। রাজ্যের ভবিষ্যত কোন হাওয়ায় পাল দেয়। চলছে জোর চর্চা। বোঝার চেষ্টা চলছে চৌঠা মেয়ের ফলাফল। তবে নিজেদের জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী শাসক-বিরোধী দুপক্ষই।
গণনার দিন বিজয় উৎসবের প্রস্তুতিতে জেলাজুড়ে এখন হু হু করে বিক্রি হচ্ছে লাল, সবুজ, গেরুয়া আবির। দ্বিতীয় দফার মাধ্যমে রাজ্যে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বাঁকুড়া শহরের রাসতলা পাইকারি দোকানগুলিতে ভিড় জমতে শুরু করে। ‘শেষ হাসি হাসবেন তাঁরাই’ ধরে নিয়ে সব দলের কর্মীরা বস্তা বস্তা আবির তুলছেন।
আবির হল সিজেনাল ব্যবসা। মুলত দোলপূর্ণিমা বা হলির সময়ই এর প্রচুর পরিমান বিক্রি হয়ে থাকে। তার পরই আসে ভোট উৎসব। আবির ব্যবসায়ীরা বলছেন, চাহিদার কথা মাথায় রেখে তারা মজুদ রেখেছেন আবির। ভোট উৎসব উপলক্ষে আবিরের দামও বৃদ্ধি করা হয়েছে। এক ব্যবসায়ীর কথায় এখনও পর্যন্ত ৩০০ বস্তা গেরুয়া আবির বিক্রি হয়েছে। আর সবুজ আবির বিক্রি হয়েছে ১০০ বস্তা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এত পরিমান গেরুয়া আবির বিক্রি রাজ্যের পালাবদলের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে আরেক অংশের মত , গেরুয়া আবির বিক্রি মানেই শুধু যে সাধারন মানুষ কিনছে এমন নয়। দলের নেতা-কর্মী-সমর্থকরা ফলাফলের আগে দলীয় রঙের আবির মজুত করে রাখছে।তবে কারন যাই হোক , ভোট উৎসবকে কেন্দ্র করে এত পরিমান আবির বিক্রি হওয়ায় খুশি আবির ব্যাবসার সঙ্গে যুক্তরা।
যদিও কোন রঙের আবির বেশি বিক্রি হল, সেই দলই রাজ্যের ভবিষ্যত হবে-এটা নিশ্চিত করে বলা যায় না। অন্তত এমনটাই বলছে বিশেষজ্ঞমহল। তার ওপর আবির ব্যবসায়ীদের একাংশের মত, ব্যবসার জন্য সব রঙের আবিরই মজুত রাখতে হয়। গেরুয়া ও সবুজ আবিরের পাশাপাশি লাল আবিরও বিক্রি হচ্ছে।
বিগত বছর গুলিতে যদি নজর রাখা যায় বাঁকুড়ার বিধানসভা নির্বাচনে ২০১১তে শেষ খাতা খুলেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। ২০১৬ নির্বাচনে সেই স্থান দখল করে নেয় জাতীয় কংগ্রেস। ২০২১ শে তৃণমূল প্রার্থী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ের থেকে ১,৪৬৮ ভোটে এগিয়ে জয়লাভ করে বিজেপির নীলাদ্রি শেখর দানা।২০২৬ দানার ওপরই ভরসা রেকে তাকে প্রার্থী করে গেরুয়া শিবির। অন্যদিকে প্রার্থী ডাঃ অনুপ মণ্ডলকে জনদরদী চিকিৎসক” হিসেবে সামনে আনে শাসকদল। তাই বাঁকুড়ার ক্ষেত্রে নীলাদ্রি শেখর দানাতেই প্রত্যাবর্তন নাকি জনদরদী চিকিৎসক অনুপ মণ্ডলকে নির্বাচিত করে পরিবর্তনের পথে হেঁটেছে বাঁকুড়াবাসী ? এর উত্তর বন্দি হয়ে আছে ব্যলটবক্সে। কোন রঙের আবির আরও বেশি বিক্রি হবে তার জন্য ৪ঠা মেয়ের প্রতিক্ষায় বসে বাঁকুড়ার আবির ব্যবসায়ীরা।