ভবানীপুরের স্ট্রংরুমে প্রহরী খোদ মুখ্যমন্ত্রী !

প্রায় চার ঘণ্টা ধরে শাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের ভিতরে থেকে পাহারা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : ভোট মিটতেই ফল ঘোষণার আগে উত্তেজনা তুঙ্গে। ভবানীপুর কেন্দ্রে ইভিএম রাখা স্ট্রং রুম ঘিরে নজিরবিহীন টানাপোড়েনের সাক্ষী থাকল কলকাতা। শুক্রবার রাত আটটা নাগাদ আচমকাই শাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে হাজির হন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে ছিলেন তাঁর নির্বাচনী এজেন্টও। কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী প্রার্থী বা তাঁর এজেন্ট স্ট্রং রুম সংলগ্ন এলাকায় থাকতে পারেন। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর হঠাৎ এই স্ট্রংরুমে চলে যাওয়া ঘিরে জল্পনা ছড়িয়েছে।

এদিকে, একই সময়ে শহরের আরেক প্রান্তে ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রেও উত্তেজনা চরমে ওঠে। তৃণমূলের তরফে সিসিটিভি ফুটেজ দেখিয়ে অভিযোগ তোলা হয়, স্ট্রং রুম এলাকায় বিজেপির এজেন্টদের দেখা গিয়েছে। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রের বাইরে ধর্নায় বসেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ ও মন্ত্রী শশী পাঁজা। পরিস্থিতি সামাল দিতে হস্তক্ষেপ করে নির্বাচন কমিশন।

প্রায় চার ঘণ্টা ধরে স্কুলের ভিতরে অবস্থান করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অবশেষে রাত ১২টা ৭ মিনিট নাগাদ বাইরে এসে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন, “স্বচ্ছতা বজায় রাখা জরুরি। কারচুপির চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ পেয়েই এসেছি। গণনায় কোনও কারচুপি বরদাস্ত নয়।” পাশাপাশি তিনি জানান, স্ট্রং রুমের উপরে নজরদারি আরও জোরদার করতে প্রার্থী বা এজেন্টদের উপস্থিতির পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমের জন্যও সিসিটিভি নজরদারির ব্যবস্থা করার প্রস্তাব দিয়েছেন।

পরে সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে জানান, “তৃণমূলের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। পোস্টাল ব্যালট আলাদা করার কাজ নিয়ম মেনেই হচ্ছিল এবং সব পক্ষকেই আগেই জানানো হয়েছিল।” তিনি আরও বলেন, ওই সময় করিডোরে আলো না জ্বালানোই নিয়মের অংশ।

দিনের শেষে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মাঝেই দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভিডিয়ো বার্তায় তিনি নির্দেশ দেন, স্ট্রং রুম পাহারায় যেন কোনও ফাঁক রাখা যাবে না। “দিনে কর্মীরা থাকুন, রাতে প্রার্থীরা নিজে নজর রাখুন। মেশিন বদলের চক্রান্ত হতে পারে—সতর্ক থাকতে হবে,” বলেন তিনি। এমনকি প্রয়োজনে নিজে রাস্তায় নামার ইঙ্গিতও দেন তৃণমূল সুপ্রিমো।

বিধানসভা ভোটের ফল ঘোষণার আগেই এই টানটান পরিস্থিতি রাজ্যের রাজনৈতিক আবহে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে, তা বলাই বাহুল্য। এখন ভোটের ফলাফল কী হয় সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্যবাসী।