এ কী বলে ফেললেন হুমায়ুন ?

তার মানে কি শুধু ফলাফল প্রকাশের অপেক্ষা? তারপরেই তৃণমূলে প্রত্যাবর্তন হচ্ছে হুমায়ুন কবীরের ?

স্বাগতা চন্দ্র সাহা, সাংবাদিক : বিধানসভা ভোটে নির্ণায়ক ভূমিকা থেকে ভাবী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার বাসনা প্রকাশ করেছিলেন হুমায়ুন কবীর। তবে ভোট মিটতেই ভোলবদল। একি বলছেন হুমায়ুন কবীর। শেষে কিনা তৃণমূলের সঙ্গে ভিড়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ। এক্সিট পোলের রেজাল্ট তো বলছে বিজেপি সরকার গড়বে, দ্বিতীয় স্থানে থাকবে তৃণমূল। অথচ হুমায়ুন কবীর একি বলছেন। হিসাব মতো তাঁর বিজেপির সঙ্গে গাঁটবন্ধন প্রত্যাশিত সেখানে কিনা তৃণমূলের সঙ্গে জুড়ে যাওয়ার কথা বলছেন তিনি। তার মানে কি শুধু ফলাফল প্রকাশের অপেক্ষা? তারপরেই তৃণমূলে প্রত্যাবর্তন? আবার উল্টো করে দেখলে এই প্রশ্ন জাগে হুমায়ুন কবীরও কি মানছেন তৃণমূলই ক্ষমতায় ফিরছে?

হুমায়ুন কবীরের ঠিক শ্যাম রাখি না কূল রাখি অবস্থার মতো। ভোটের শুরু থেকে জিগির তুললেন রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী মুখ তিনিই। বাংলার ভোটে তিনিই নির্ণায়ক ভূমিকা নেবেন।


ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার আগেই তিনি প্রচারের আলোয়। বাবরি মসজিদের শিলান্যাস করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নয়নের মণি হুমায়ুন কবীর। এর পরেই সংখ্যালঘু মানুষদের আবেগ ধরে রাখতে তিনি ঘোষণা করলেন এজেইউপি নামে একটি নতুন দলের। তখন হুমায়ুন কবীর একাই বাংলার ভোটের আবহ জমিয়ে দিয়েছেন। তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হয়ে খোঁচা খাওয়া বাঘের মত পুরনো দলের নামে বিষদাগার করছেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও তাঁকে বিশ্বাসঘাতক বলে আক্রমণ শানিয়েছেন। তৃণমূল বনাম হুমায়ুনের সম্মুখ সমর দেখে অনেকেই বলতে শুরু করেছিলেন হুমায়ুন কবীর বিজেপির বি টিম। এরপরেই মিমের সঙ্গে গাঁটছড়া। কিন্তু হাওয়া ঘুরলো একটা স্টিং ভিডিওর হাত ধরে। যদিও হুমায়ুন কবীরের দাবি প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে তাঁর মন্তব্য বিকৃতি করা হয়েছে। স্টিং ভিডিওয় একটা মন্তব্যের জেরে সংখ্যালঘুদের মাশিহা থেকে তিনি রাতারাতি হয়ে পড়লেন সংখ্যালঘু ভোট কাটুয়া। তাঁর সঙ্গ ত্যাগ করল মিম। ২৬ এর বিধানসভা ভোটে একাই ল়ড়তে হল হুমায়ুন কবীরকে। ভোট মিটতেই আবার অন্য রূপে হুমায়ুন কবীর। নওদা ও রেজিনগর থেকে ভোটে লড়েছেন তিনি। এই দুটি আসনেই তিনি জিতবেন বলে আশাবাদী। শুরুতে করা হবু মুখ্যমন্ত্রী মুখের বদলে তিনি বিরোধী হিসাবে থাকছেন বলে মনে করছেন। যদিও ভোটের ফলাফল বের হলেই বোঝা যাবে তিনি কোন রূপে রাজনীতির স্রোতে বহমান থাকেন। কিন্তু একি শুনি হুমায়ুনের মুখে। এক্সজিট পোল দেখে গেরুয়া শিবিরের মনে আশা জেগেছে। চারিদিকে বিজেপির ক্ষমতায় আসা নিয়ে জল্পনা তখন হুমায়ুন কবীর বলছেন তৃণমূলের সঙ্গে জোট গড়ার কথা। তৃণমূলের সঙ্গে সরকার গঠনে থাকতে পারেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবীর । দল বিরোধী কাজের জন্য তৃণমূল থেকে সাসপেন্ডড হয়েছিলেন তিনি। তারপরই নিজের দলগঠন করেন। এবার ভোট গণনার ঠিক দুদিন আগেই বিস্ফোরক মন্তব্য হুমায়ুনের। হুমায়ুন কবীরের দাবি, সরকার গঠনের জন্য তৃণমূলকে তার কাছেই আসতে হবে। তিনি বলেন-
ডাকার কোনও প্রশ্ন নেই। আমার কাছে আসতে হবে। এসে বলতে হবে যা করেছি ভুল করেছি। ক্ষমা করতে হবে। তারপর বুঝব। ও কে হরিদাস পাল। ও ডাকবে আর আমি চলে যাব। হুমায়ুন কবীর এত দুর্বল লোক নয় যে ডাকবে আর চলে যাব। হাঁটু গেড়ে বলবে…মানুষের স্বার্থে আমি তখন ভাবব। হুমায়ুন কবীরের এই ধরণের মন্তব্যে ফের উঠেছে সমালোচনার ঝড়। তৃণমূল নেতারা অনেকেই তাঁর মস্তিষ্ক বিকৃতি হয়েছে বলে কটাক্ষ ছুঁড়ে দিয়েছেন। কিন্তু হুমায়ুন কবীর রয়েছেন তাঁর লাইনে। কথার উপরে কথা চাপানোয় তাঁর জুরি মেলা ভার। বার বার পাল্টি খাচ্ছেন। হুমায়ুন কবীরের নিন্দুকদের দাবি, ভোটের ফলাফল ঘোষণার তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ার প্রশ্নের মুখে তাই এই ধরণের মন্তব্য করে হাওয়া গরম করছেন হুমায়ুন কবীর।