বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়ে দিল কলকাতা পুলিশ।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : ভোটগণনার দিনেই শহরে কড়া পদক্ষেপ নিল কলকাতা পুলিশ। সোমবার বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয়েছে, ৪ মে কলকাতা জুড়ে কোনও ধরনের বিজয় মিছিল, ব়্যালি বা প্রকাশ্য উদ্যাপন করা যাবে না। নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং গণনা প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নে বজায় রাখতে এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
পুলিশের তরফে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, কোনও রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠী এ দিন রাস্তায় নেমে আনন্দ মিছিল করতে পারবে না। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে, যাতে কোথাও কোনও অশান্তি বা বিশৃঙ্খলা না তৈরি হয়। উচ্চ-সতর্কতার আবহে গোটা শহর কার্যত নিরাপত্তার চাদরে মোড়া।
প্রশাসনের বক্তব্য, গণনার দিন উত্তেজনা বাড়তে পারে। তাই আগে থেকেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে জানানো হয়েছে, ৫ মে বা তারপর বিজয় মিছিল করা যেতে পারে, তবে সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট থানার ওসি-র কাছ থেকে আগে অনুমতি নিতে হবে। অনুমতি মিললেও তা নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষ। সমস্ত নিয়ম, বিধিনিষেধ এবং নির্দেশিকা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে বলেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, এই নির্দেশ অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাই প্রতিটি থানার ওসিকে বিশেষভাবে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে নির্দেশ কার্যকর হয় এবং কোনও বিশৃঙ্খলা না ঘটে।
এদিকে, ভোটগণনার যে ট্রেন্ড। তার জেরে ক্রমেই রাজনৈতিক পারদ চড়চ্ছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় জনতা পার্টি ১৯০-এর বেশি আসনে এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে তৃণমূূল কংগ্রেস এগিয়ে ৯৫টির বেশি আসনে। এছাড়া ছোট দলগুলির মধ্যে বিজিপিএম, এজেইউপি এবং সিপিআই(এম) একটি করে আসনে লিড করছে। যদিও এখনও চূড়ান্ত ফল ঘোষণা হয়নি, গণনা প্রক্রিয়া চলছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এবারের নির্বাচনে ভোটদানের হার নজিরবিহীন। দ্বিতীয় দফায় ৯১.৬৬ শতাংশ এবং প্রথম দফায় ৯৩.১৯ শতাংশ ভোট পড়ে। সবমিলিয়ে গড় ভোটদানের হার দাঁড়িয়েছে ৯২.৪৭ শতাংশে—যা স্বাধীনতার পর সর্বোচ্চ বলে দাবি নির্বাচন কমিশনের।
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ২১৩টি আসন জিতে ক্ষমতায় আসে। অন্যদিকে বিজেপি ৭৭টি আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে উঠে আসে। সেই প্রেক্ষাপটে এবারের ফল ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে, আর সেই কারণেই শহরে আগাম সতর্কতা জারি করেছে পুলিশ প্রশাসন।