অভিষেকের নিরাপত্তায় কাটছাঁট !

হরিশ মুখার্জি রোডে অভিষেকের বাড়ি শান্তিনিকেতন বিল্ডিংয়ের সামনে বিশেষ নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশকর্মীদের সরিয়ে ফেলা হল।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে বদলে যাচ্ছে রাজ্যের নিরাপত্তা ছবিটাও। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবন শান্তিনিকেতনের সামনে থাকা নিরাপত্তা ব্যবস্থার পরিবর্তন। এক সময় যেখানে শয়ে শয়ে পুলিশ মোতায়েন থাকত, এখন সেখানে নিরাপত্তার ছবিটা অনেকটাই শিথিল বলে জানাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এলাকার এক বাসিন্দা সৌরভ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আগে এখানে ৩০০-৩৫০ জন পুলিশ মোতায়েন থাকত শুধু একজন সাংসদের জন্য। সাধারণ মানুষের পক্ষে এখানে চলাচল করাটাও কঠিন হয়ে উঠেছিল। এখন পরিস্থিতি অনেক শান্ত। মানুষ রাস্তায় স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছে।” তাঁর অভিযোগ, এলাকায় বসবাস করলেও স্থানীয় উন্নয়নে তেমন কোনও ভূমিকা নেননি অভিষেক।

 মঙ্গলবার সকালেই কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনের গলির ব্যারিকেড খুলে দেওয়া হয়। ফলে যে রাস্তা দিয়ে এতবছর আমজনতা অনুমতি ছাড়া যাতায়াত করতে পারতেন না, এবার তা সর্বসাধারণের জন্য খোলা। এদিন বিকেলেই অভিষেকের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসের সামনের নিরাপত্তা সরিয়ে দেওয়া হয়।

মঙ্গলবার রাতেই লালবাজারের তরফে নির্দেশিকা জারি করা হয়। বুধবার সকালের মধ্যে হরিশ মুখার্জি রোডে অভিষেকের বাড়ির সামনের বিশেষ নিরাপত্তা সরিয়ে ফেলতে বলা হয়। ইতিমধ্যেই সেই নির্দেশিকা কার্যকর হয়েছে। অভিষেকের বাড়ির সামনে দুপাশে ছিল দুটি পুলিশ কিয়স্ক। ছিল ব্যারিকেডও। সর্বক্ষণ নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকতেন পুলিশ। কিন্তু বুধবার সকালে একবারে বদলে গিয়েছে শান্তিনিকেতনের সামনের ছবিটা। ফাঁকা পুলিশ কিয়স্ক। সামনের চেয়ারগুলোও ফাঁকা করে দেওয়া হয়েছে। একজন পুলিশকর্মীও নেই। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তাতেও কাটছাঁট করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

অন্যদিকে, ভোট-পরবর্তী হিংসা রুখতে কড়া বার্তা দিয়েছে ভারতের নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রাজ্যের মুখ্যসচিব, ডিজিপি এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই আসানসোলের গোধূলি এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের একটি কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। দুষ্কৃতীরা অফিসে হামলা চালিয়ে আসবাবপত্র, পতাকা, পোস্টার নষ্ট করে দেয় বলে অভিযোগ।

এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে বিজেপি। ২০৭টি আসন দখল করে ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়েছে তারা। শপথ গ্রহণের প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে জোরকদমে।

এবারের বিধানসভা ভোটের ফলে দেখা যাচ্ছে, আসন সংখ্যায় বিপুল ব্যবধান থাকলেও ভোট শতাংশে লড়াই ছিল যথেষ্ট হাড্ডাহাড্ডি। বিজেপি পেয়েছে ৪৫.৮৪ শতাংশ ভোট, তৃণমূলের প্রাপ্তি ৪০.৮০ শতাংশ। সিপিএম ৪.৪৫ এবং কংগ্রেস ২.৯৭ শতাংশ ভোট পেয়েছে। বাকি ভোট গিয়েছে অন্যান্য দল ও নির্দল প্রার্থীদের ঝুলিতে।