বাংলার বুকে কি আদৌ মাথা তুলে দাঁড়াবে বাবরি মসজিদ ?

স্বাগত চন্দ্র সাহা, সাংবাদিক : হুমায়ুন কবীর নওদা ও রেজিনগর এই দুই আসনেই জয়লাভ করেছেন। যে জেলায় অধীর চৌধুরীর মতো নেতাকে হারতে হয়েছে সেখানে হুমায়ুন কবীর তাঁর চ্যালেঞ্জ জিতেছেন। মানুষের সমর্থন পেয়েছেন বলেই তো জিততে পেরেছেন। এবার কি পদক্ষেপ নেবেন হুমায়ুন কবীর। কোন দিকে ঝুঁকবেন তিনি। হিন্দুত্বের মতাদর্শে বিশ্বাসী বিজেপি যেখানে ক্ষমতায় সেখানে কী করে মাথা তুলবে তাঁর সাধের বাবরি মসজিদ।
ভোটে আবহ শুরুর আগেই ময়দানে নেমে পডে়ছিলেন হুমায়ুন কবীর। তৃণমূল থেকে সাসপেন্ডেড হওয়ার পর তিনি বঙ্গে বাবরি মসজিদের হিরিক তুলে সংখ্যালঘু ভোট একাকাট্টা করার চেষ্টা করেছেন। নতুন দল খুলে তৃণমূলকে চাপে ফেলার চেষ্টা করেছেন। তিনি হয়তো বাংলার রাজনীতিতে নির্ণায়ক ভূমিকা নিতে পারেননি। কিন্তু দুটি আসনে জেতা ও তৃণমূলের ক্ষমতায় না আসা কোথাও যেন এ যাত্রায় মুখরক্ষা হয়েছে হুমায়ুন কবীরের। অনেকেই বলেছিলেন নওদা ও রেজিনগর এই দুই আসনের মধ্যে যে কোনও একটি আসন হয়তো জিততে পারেন হুমায়ুন কবীর। কারণ ভোটের মুখে তাঁর স্টিং ভিডিও ও মিমের সঙ্গে জোট ভেস্তে যাওয়ার কারণে ধাক্কা খেতে হয় এজেইউপিকে। যে জোশ নিয়ে নিয়ে ভোট ময়দানে অবতীর্ণ হয়েছিলেন তাতে ব্যাঘাত ঘটে। দলের অনেক প্রার্থীই তাঁর সঙ্গ ত্যাগ করায় চাপে পড়েন কবীর সাহেব। তবুও ভোটের মাস দুয়েক আগে গড়া আম জনতা উন্নয়ন পার্টি র প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভবানীপুর থেকে শুরু করে শুভেন্দু অধিকারীর নন্দীগ্রাম কেন্দ্রেও। দলের চেয়ারম্যান হুমায়ুন নিজে লড়েছিলেন মুর্শিদাবাদের দুই কেন্দ্রে নওদা এবং রেজিনগর। ভবানীপুর, নন্দীগ্রামে হুমায়ুনের প্রার্থীরা দাঁত ফোটাতে না পারলেও ক্যাপ্টেন কবীর জিতেছেন দুই আসনেই। নওদায় তৃণমূল প্রার্থী তথা বিদায়ী বিধায়ক সাহিনা মুমতাজ এবং রেজিনগরে আতাউর রহমানকে যথাক্রমে ২৭৯৪৩ এবং ৫৮৮৭৬ ভোটে পরাজিত করছেন তিনি।
হুমায়ুন কবীর আর বিতর্ক থাকবে না তা আবার হয় নাকি। গত কয়েক মাসে রাজ্য রাজনীতির আলোচিত চরিত্র ২০১১ সালে ছিলেন কংগ্রেসের বিধায়ক। ২০১৬ সালে তিনি নির্দল বিধায়ক। ২০২১ সালে তৃণমূলের এবং ২০২৬ সালে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির একমাত্র জয়ী প্রার্থী। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ভরতপুরের তৎকালীন বিধায়ক হুমায়ুনকে সাসপেন্ড করে তৃণমূল। দলের অবস্থানের বিপরীতে গিয়ে বাবরি মসজিদ গড়বেন বলে জেদ ধরেন তিনি। তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হওয়ার পরেও বেলডাঙা এলাকায় বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। জেদই হুমায়ুন কবীরের ইউএসপি। নাহলে কি সাইকেল দোকানি থেকে লরি ব্যবসায়ী কিংবা অধীর চৌধুরীর অনুগামী থেকে মন্ত্রী হওয়া হত তাঁর। দল গড়েই রাজ্যের ২৯৪টি আসনে লড়াইয়ের কথা ঘোষণা করেছিলেন। তবে শেষমেশ দেড়শোর মতো আসনে প্রার্থী দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েক জন প্রার্থী আবার ভোটের আগেই তৃণমূল যোগ দেন। দলবদলের এই ডামাডোলে হুমায়ুন নিজেও ভোটের আগে বলতে পারেননি, ঠিক কত জন প্রার্থী তাঁর বাঁশি চিহ্ন নিয়ে লড়াই করছেন! কমিশনের দেওয়া ভোটের ফলাফল বলছে ১৪৩টি আসনে লড়াই করেছিল আম জনতা উন্নয়ন পার্টি। তার মধ্যে জয়ী প্রার্থী একজনই— হুমায়ুন। বেলডাঙায় মসজিদ গড়ার কাজ শুরু করলেও হুমায়ুন নিজে ভোটে লড়েছিলেন নওদা এবং রেজিনগর থেকে। এই দুই আসনে সংখ্যালঘু ভোটের সিংহভাগ পড়েছে হুমায়ুনের ঝুলিতে। তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু এবার প্রশ্ন হল আদৌ কি বাংলায় মাথা তুলবে হুমায়ুনের সাধের বাবরি মসজিদ। কারণ সংখ্যালঘু মানুষেরা তো অধীর অপেক্ষায় বসে। বিজেপি এখন ক্ষমতায় , যোগী আদিত্যনাথ যেখানে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাবরি মসজিদ করা নিয়ে সেখানে কী করে বাবরি মসজিদের স্বপ্নপূরণ করবেন হুমায়ুন।
কথায় আছে না ভাঙবেন তো মচকাবেন না। ভোটে তিনি একাই লড়াই দিয়েছেন । তাঁর দলের ১৪৫ জন প্রার্থীর মধ্যে তিনি একাই জয়ী। অতএব এবার দেখার পালা কোন পথের পথিক হন হুমায়ুন কবীর। কোন আসন ছাড়বেন এবং কাকে দেবেন। তা নিয়ে রাজনীতির অলিন্দে প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। বলা ভালো ভোট শেষেও রাজনীতিতে বেশ প্রাসঙ্গিক হুমায়ুন কবীর।