মাধ্যমিক : প্রথম দশে নরেন্দ্রপুরের সাত ছাত্র

মাধ্যমিকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার দাপট, প্রথম দশে নরেন্দ্রপুরের সাত ছাত্র।

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : সোনারপুর ও জয়নগরের কৃতীরাও রাজ্যের মেধাতালিকায়, উচ্ছ্বাস জেলাজুড়ে
মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর এ বছর দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা কার্যত নজর কেড়ে নিল রাজ্যের শিক্ষামহলে। মেধাতালিকার প্রথম দশে একাধিক ছাত্রছাত্রীর জায়গা করে নেওয়ায় জেলাজুড়ে খুশির হাওয়া। বিশেষ করে নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যালয়ের সাফল্য এবার সকলকে চমকে দিয়েছে। প্রথম দশের মধ্যে একাই সাতজন ছাত্র স্থান করে নিয়ে নজির গড়েছে এই প্রতিষ্ঠান। পাশাপাশি সোনারপুর ও জয়নগরের ছাত্রছাত্রীরাও দুর্দান্ত ফল করে জেলার মুখ উজ্জ্বল করেছে।
রাজ্যের মেধাতালিকায় তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যালয়ের ছাত্র সৌর জানা। তার প্রাপ্ত নম্বর ৬৯৫। ফল প্রকাশের পর থেকেই স্কুল চত্বরে আনন্দের আবহ তৈরি হয়েছে। শিক্ষকরা জানিয়েছেন, পড়াশোনার প্রতি সৌরের নিষ্ঠা এবং নিয়মিত অনুশীলনই তাকে এই সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দিয়েছে। ভবিষ্যতে বিজ্ঞান নিয়ে উচ্চশিক্ষার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছে সৌর।
পঞ্চম স্থান দখল করেছে একই বিদ্যালয়ের সমন্তক কুণ্ডু। তার প্রাপ্ত নম্বর ৬৯৩। কঠোর পরিশ্রম, সময় মেনে পড়াশোনা এবং শিক্ষকদের পরামর্শ মেনেই সে এই সাফল্য অর্জন করেছে বলে জানিয়েছে পরিবার। সপ্তম স্থানে রয়েছে সমজ্যোতি দাস, যার প্রাপ্ত নম্বর ৬৯১। সমজ্যোতির সাফল্যে গর্বিত তার শিক্ষক-শিক্ষিকারা। তারা জানিয়েছেন, বরাবরই অত্যন্ত মনোযোগী ছাত্র ছিল সে।
এছাড়াও যুগ্মভাবে অষ্টম স্থান অর্জন করেছে নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের দুই ছাত্র জীবিতেশ কায়াল ও সৌম্যকান্ত কুইল্যা। দু’জনেরই প্রাপ্ত নম্বর ৬৯০। নবম স্থানে রয়েছে ঐশিক চক্রবর্তী, তার প্রাপ্ত নম্বর ৬৮৯। দশম স্থানে জায়গা করে নিয়েছে অনুরাগ মণ্ডল, যার প্রাপ্ত নম্বর ৬৮৮। এক বিদ্যালয় থেকে এতজন ছাত্রের মেধাতালিকায় জায়গা করে নেওয়া নিঃসন্দেহে বিরল ঘটনা বলেই মনে করছেন শিক্ষাবিদরা।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, শুধুমাত্র পরীক্ষার নম্বর নয়, ছাত্রদের সার্বিক বিকাশের উপরও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয় নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনে। নিয়মিত অধ্যবসায়, সুশৃঙ্খল জীবনযাপন এবং শিক্ষকদের নিরলস প্রচেষ্টার ফলেই এই সাফল্য এসেছে বলে মত স্কুল কর্তৃপক্ষের।
অন্যদিকে সোনারপুর থেকেও এসেছে গর্বের খবর। সোনারপুর সারদা বিদ্যাপীঠের ছাত্রী বিদিশা হালদার ৬৯২ নম্বর পেয়ে রাজ্যের মেধাতালিকায় ষষ্ঠ স্থান অধিকার করেছে। মেয়ের এই সাফল্যে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। বিদিশা জানিয়েছে, নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি সময় ভাগ করে প্রস্তুতি নেওয়াই তাকে সাফল্য এনে দিয়েছে। ভবিষ্যতে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন রয়েছে তার।
জয়নগর থেকেও এবারের মাধ্যমিকের ফলাফলে এসেছে বড় সাফল্য। জয়নগর জেএম ট্রেনিং School-এর ছাত্র মৈনাক চক্রবর্তী ৬৯০ নম্বর পেয়ে যুগ্মভাবে অষ্টম স্থান অর্জন করেছে। ফল প্রকাশের পর থেকেই তার বাড়িতে শুভেচ্ছার বন্যা বইছে। শিক্ষকরা জানিয়েছেন, মৈনাক অত্যন্ত শান্ত ও পরিশ্রমী ছাত্র। নিয়মিত পড়াশোনা এবং আত্মবিশ্বাসই তার সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।
এছাড়া দক্ষিণ বারাসত শিবদাস আচার্য হাই স্কুলের ছাত্র অয়ন হালদার ৬৮৮ নম্বর পেয়ে দশম স্থানে জায়গা করে নিয়েছে। সাধারণ পরিবারের ছেলে অয়নের এই সাফল্যে খুশির হাওয়া গোটা এলাকাজুড়ে। পরিবার জানিয়েছে, আর্থিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও পড়াশোনার ক্ষেত্রে কখনও আপস করেনি অয়ন।
ফল প্রকাশের পর জেলার বিভিন্ন স্কুলে শুরু হয়েছে আনন্দ উদযাপন। কোথাও মিষ্টিমুখ, কোথাও ফুল দিয়ে সংবর্ধনা জানানো হয়েছে কৃতী পড়ুয়াদের। অভিভাবকদের চোখে গর্ব, শিক্ষকদের মুখে তৃপ্তির হাসি।
শিক্ষামহলের মতে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার এই সাফল্য প্রমাণ করে দিয়েছে যে সঠিক পরিকল্পনা, অধ্যবসায় এবং শিক্ষকদের সঠিক দিকনির্দেশনা থাকলে জেলার ছাত্রছাত্রীরাও রাজ্যস্তরে সেরাদের তালিকায় নিজেদের জায়গা করে নিতে পারে। এবারের মাধ্যমিকের ফলাফল সেই বার্তাই আরও একবার স্পষ্ট করে দিল।