“বাংলার মতো উত্তরপ্রদেশেও অখিলেশদের একই পরিণতি হবে।”

বাংলায় মমতা এবং অখিলেশদের বিরোধী ঐক্যের ছবি প্রকাশ্যে আসতেই কটাক্ষ বিহারের মন্ত্রী দিলীপ জয়সওয়ালের।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর বিরোধী ঐক্যের বার্তা দিতে কলকাতায় এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সঙ্গে বৈঠক করলেন অখিলেশ যাদব (Akhilesh Yadav)। আর সেই বৈঠককে ঘিরেই শুক্রবার তীব্র কটাক্ষ ছুড়ে দিল বিজেপি। বিহারের মন্ত্রী দিলীপ জয়সওয়াল দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গে যেমন তৃণমূল ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে, আগামী দিনে উত্তরপ্রদেশেও একই পরিণতি হবে সমাজবাদী পার্টির।

একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জয়সওয়াল বলেন, “বাংলার মানুষ যেমন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়েছেন, তেমনই সময় এলে উত্তরপ্রদেশেও সমাজবাদী পার্টির একই দশা হবে। তাই আগেভাগেই তাঁদের বন্ধুত্ব গড়ে উঠছে।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার কলকাতায় নাটকীয় ভাবে বিরোধী ঐক্যের ছবি সামনে আসে। নির্বাচনে পরাজয়ের পরেও মুখ্যমন্ত্রীর পদ না ছাড়ার বার্তা দেন মমতা। দলীয় বিধায়কদের বৈঠকে তিনি নাকি বলেন, “আমি পদত্যাগ করব না। চাইলে ওরা আমাকে বরখাস্ত করুক। এই দিনটাকে কালো দিন হিসেবেই মনে রাখতে চাই। আমাদের আরও শক্ত হতে হবে।”

একই সঙ্গে ভোট প্রক্রিয়া নিয়েও বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর দাবি, এই নির্বাচন প্রকৃত অর্থে ভোট ছিল না, বরং “অত্যাচার”। জোরজবরদস্তি ও ভয় দেখিয়ে ভোট করানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পাশাপাশি তাঁর দাবি, ফল ঘোষণার পর থেকেই তৃণমূলের দেড় হাজারেরও বেশি দলীয় কার্যালয় দখল করে নেওয়া হয়েছে।

অন্য দিকে বিরোধী জোটের এই ঘনিষ্ঠতাকে কটাক্ষ করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও (Samik Bhattacharya)। তাঁর মন্তব্য, “শূন্যের সঙ্গে শূন্য যোগ করলে ফলও শূন্যই হয়।” বিজেপির দাবি, বাংলার ফলাফল আগামী দিনে জাতীয় রাজনীতিতেও বিরোধী শিবিরের দুর্বলতা স্পষ্ট করে দেবে।

এ দিকে শুক্রবার ফের কংগ্রেসকে আক্রমণ শানিয়েছেন অখিলেশ। তামিলনাড়ুতে ডিএমকে-কে ছেড়ে অভিনেতা বিজয়ের দল টিভিকেকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কংগ্রেস— এই প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, কঠিন সময়ে সঙ্গীদের ছেড়ে যাওয়ার রাজনীতি তিনি করেন না। সমাজমাধ্যমে এমকে স্ট্যালিন, মমতা এবং নিজের ছবি পোস্ট করে তিনি লেখেন, “আমরা কঠিন সময়ে একে অপরকে ছেড়ে যাই না।”

বাংলার ফলের অভিঘাত যে জাতীয় বিরোধী রাজনীতিতেও পড়তে শুরু করেছে, বিরোধী নেতাদের এই প্রতিক্রিয়া সেই ইঙ্গিতই আরও স্পষ্ট করছে।