প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং বিজেপির পরিষদীয় দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী একসঙ্গে কবিগুরুর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করেন।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : রবীন্দ্রজয়ন্তীর আবহে রাজনৈতিক পালাবদলের সাক্ষী থাকল গোটা বাংলা। শনিবার কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের (Rabindranath Tagore) ১৬৫তম জন্মবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা জানিয়ে শুরু হয় রাজ্যের নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) এবং বিজেপির পরিষদীয় দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী একসঙ্গে কবিগুরুর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করেন। সেই মঞ্চেই পরে অনুষ্ঠিত হয় বিজেপি সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান।
শনিবার সকালেই কলকাতায় পৌঁছন প্রধানমন্ত্রী। ব্রিগেডে পৌঁছে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে হাত নাড়তেও দেখা যায় তাঁকে। রাজনৈতিক মহলের মতে, রবীন্দ্রনাথের জন্মদিনে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের আয়োজনের মাধ্যমে বাঙালির আবেগ ও সংস্কৃতির সঙ্গে নিজেদের রাজনৈতিক বার্তাকে যুক্ত করার চেষ্টা করেছে বিজেপি।
শুক্রবার বিজেপির ২০৭ জন বিধায়কের সমর্থনে শুভেন্দু অধিকারীকে পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচিত করা হয়। তার পর থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায়, তিনিই হতে চলেছেন বাংলার প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী। শনিবার সেই জল্পনাতেই সিলমোহর পড়ল।

শুভেন্দুকে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে বেছে নেওয়াকে স্বাগত জানিয়েছেন দলের একাধিক নেতা। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের দাবি, শুভেন্দুর নেতৃত্বে “সোনার বাংলা” গড়ার পথে এগোবে রাজ্য। তাঁর কথায়, “এই জয় সবার সম্মিলিত পরিশ্রমের ফল। শুভেন্দুদার নেতৃত্বে বাংলা নতুন পথে হাঁটবে।”
বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পালও শুভেন্দুকেই “সবচেয়ে উপযুক্ত মুখ” বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, গত পাঁচ বছরে বিধানসভার ভিতরে এবং বাইরে যেভাবে শুভেন্দু লড়াই করেছেন, তাতে তাঁর চেয়ে ভাল মুখ্যমন্ত্রীর মুখ আর হতে পারে না। একই সঙ্গে বিজেপির ২০৭ জন বিধায়ককে আগামী পাঁচ বছরে নিরলস পরিশ্রম করার বার্তাও দেন তিনি। অগ্নিমিত্রার দাবি, “যা বাংলা গত ৫০ বছরে পায়নি, আগামী পাঁচ বছরে তা পৌঁছে দিতে হবে।”
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ২০৭টি আসন জিতে রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে। অন্য দিকে, ১৫ বছরের শাসনের পরে তৃণমূল কংগ্রেস থেমেছে ৮০ আসনে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ফল শুধু সরকার বদলের নয়, বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের ইঙ্গিতও বহন করছে।