বারুইপুরে বিজেপি প্রার্থীকে ‘মারধর’, সাসপেন্ড আইসি: তুঙ্গে রাজনৈতিক উত্তেজনা।

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও (যার সত্যতা যাচাই করেনি আরপ্লাস নিউজ) কেন্দ্র করে উত্তাল দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্র। বিজেপি প্রার্থীকে রাস্তায় ফেলে মারধরের অভিযোগ এবং পরবর্তীকালে নির্বাচন কমিশনের নজিরবিহীন পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
সম্প্রতি একটি ভিডিও প্রকাশ্যে আসে যেখানে দেখা যায়, বারুইপুর পূর্বের বিজেপি প্রার্থী আক্রান্ত হচ্ছেন। গেরুয়া শিবিরের অভিযোগ, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে। তবে এই ঘটনার থেকেও বড় প্রশ্ন উঠেছে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তারা কার্যত ‘নিষ্ক্রিয়’ দর্শকের ভূমিকা পালন করেছিল।
নির্বাচন কমিশনের কড়া পদক্ষেপ
বিজেপির অভিযোগ এবং প্রাথমিক রিপোর্টের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে:
আইসি সাসপেন্ড: কর্তব্যে গাফিলতি এবং আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ব্যর্থ হওয়ায় বারুইপুর থানার আইসি (IC)-কে অবিলম্বে সাসপেন্ড করা হয়েছে।
আধিকারিক অপসারণ: আইসি ছাড়াও আরও একজন উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিককে নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বিভাগীয় তদন্ত: সংশ্লিষ্ট পুলিশকর্তাদের বিরুদ্ধে কড়া বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।
বর্তমান পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক তর্জা
কমিশনের নির্দেশের পর এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে নতুন পুলিশ আধিকারিক নিয়োগের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর:
”এই ঘটনা গণতন্ত্রের ওপর আঘাত। পুলিশ পাশে দাঁড়িয়ে তামাশা দেখেছে।” — বিজেপি নেতৃত্ব
”তৃণমূল এর সঙ্গে যুক্ত নয়। এটি বিজেপির আদি ও নব্যের লড়াই বা অন্তর্কন্দোলের ফল।” — তৃণমূল কংগ্রেস
উপসংহার: নির্বাচনের মুখে বারুইপুরের এই ঘটনা দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনৈতিক সমীকরণকে যে আরও জটিল করে তুলল, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কমিশন কড়া হাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করলেও এলাকায় চাপা উত্তেজনা এখনও বিদ্যমান।