‘বন্ধু’ মোদীকে স্বাগত মেলোনির

মোদী-মেলোনির সাক্ষাতে তোলপাড় সোশ্যাল মিডিয়া।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : রোমে পৌঁছেই উষ্ণ অভ্যর্থনা পেলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি (Giorgia Meloni) নিজেই বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান। পরে মোদীর সঙ্গে একটি সেলফি এক্স মাধ্যমে পোস্ট করে তাঁকে ‘বন্ধু’ বলে উল্লেখ করেন মেলোনি। সেই পোস্ট ঘিরে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে কূটনৈতিক মহলে।

পাঁচ দিনের বিদেশ সফরের শেষ পর্যায়ে এখন রোমে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। নরওয়ে, সুইডেন, নেদারল্যান্ডস এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি সফরের পর ইতালিতেই শেষ হচ্ছে তাঁর ইউরোপ সফর। বুধবার রোমের ঐতিহাসিক ভিলা ডোরিয়া পামফিলিতে মেলোনির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, এই বৈঠক দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।

রোমে পৌঁছেই এক্স পোস্টে মোদী জানান, ভারত-ইতালি সহযোগিতা আরও কী ভাবে জোরদার করা যায়, সেই দিকেই মূলত নজর থাকবে এই সফরে। বিশেষ গুরুত্ব পাবে ভারত-পশ্চিম এশিয়া-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডর বা আইএমইসি প্রকল্প। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় এই করিডরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছে নয়াদিল্লি।

ইতালির প্রশাসনিক সূত্রকে উদ্ধৃত করে রয়টার্স জানিয়েছে, মোদী-মেলোনি বৈঠকের পর একটি যৌথ ঘোষণাপত্র প্রকাশ হতে পারে। সেখানে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করার বার্তা দেওয়া হতে পারে। ২০২৩ সালে ভারত ও ইতালির দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ১,৪০০ কোটি ইউরো। ২০২৯ সালের মধ্যে সেই পরিমাণ ২,০০০ কোটিতে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

শুধু রাজনৈতিক আলোচনা নয়, দুই দেশের শিল্পপতিদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন মোদী ও মেলোনি। অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, সামুদ্রিক পরিবহণ, কৃষি, উচ্চশিক্ষা এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ নিয়ে চুক্তির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। পাশাপাশি আর্থিক অপরাধ দমন এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা হতে পারে বলে সূত্রের খবর।

আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও উঠে আসতে পারে দুই রাষ্ট্রনেতার আলোচনায়। পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময়ের সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়াও ইতালির প্রেসিডেন্ট সার্জিও ম্যাটারেলা (Sergio Mattarella)-র সঙ্গে আলাদা বৈঠক করবেন মোদী। রাষ্ট্রসংঘে র খাদ্য ও কৃষি সংস্থার সদর দফতরও পরিদর্শন করার কথা তাঁর। কূটনৈতিক মহলের মতে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সাম্প্রতিক বাণিজ্যচুক্তির পর মোদীর এই সফর ভারতের কৌশলগত অবস্থান আরও শক্তিশালী করতেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে চলেছে।