বেআইনি লোটো খেলা ও জুয়ার আসর বন্ধ!

জেলায় জেলায় বেআইনি লোটো খেলা ও জুয়ার আসর সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে। এসব ক্ষেত্রে পুলিশ ও প্রশাসনকে কড়া পদক্ষেপ করতে হবে বলে, কল্যাণীর প্রশাসনিক বৈঠকে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতিতে উত্তর ২৪ পরগনায় এক দিকে জনসংযোগ বাড়ানোর কর্মসূচি, অন্য দিকে প্রশাসনিক কড়াকড়ি— দু’দিকেই একসঙ্গে জোর দিচ্ছে রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার কল্যাণীতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-র প্রশাসনিক বৈঠকের পর জেলা প্রশাসনের অন্দরে সেই বার্তাই স্পষ্ট হয়েছে বলে সূত্রের খবর। বৈঠকে জেলা পরিষদে দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে প্রশাসনকে সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন এলাকায় বেআইনি লোটো খেলা ও জুয়ার আসর সম্পূর্ণ বন্ধ করতে পুলিশ ও প্রশাসনকে কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।

প্রশাসনিক সূত্রের খবর, বৈঠকে শিল্প পরিস্থিতিও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনায় নতুন শিল্প আনার সম্ভাবনা, বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ এবং শিল্পাঞ্চলগুলিকে পুনরুজ্জীবিত করার পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে বারাকপুর শিল্পাঞ্চলের চটকল শিল্পে কাঁচামালের সঙ্কট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। পাটের অভাবে বহু জুটমিল সমস্যার মুখে পড়ায় বাংলাদেশ থেকে পাট আমদানির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। সে জন্য সীমান্তবর্তী ল্যান্ড পোর্ট চালুর প্রস্তাবও আলোচনায় উঠে এসেছে বলে প্রশাসনিক সূত্রের দাবি।

বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা যাতে সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। সেই লক্ষ্যেই আগামী ১৫, ১৬ ও ১৭ জুন জেলার বিভিন্ন ব্লক, পুরসভা ও কর্পোরেশন এলাকায় বৃহৎ জনকল্যাণ শিবির আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। জেলা প্রশাসনের এক কর্তার কথায়, ওই শিবিরগুলিতে কেন্দ্র ও রাজ্যের বিভিন্ন প্রকল্পের তথ্য, আবেদন প্রক্রিয়া এবং সুবিধা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। বিডিও, পুরসভার সিইও এবং কর্পোরেশন কমিশনারদের নেতৃত্বে এই কর্মসূচি চলবে। স্থানীয় বিধায়ক ও সাংসদদেরও যুক্ত রাখা হবে বলে জানা গিয়েছে।

এর আগে ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবসে জেলার সর্বত্র ‘মায়ের নামে একটি গাছ’ কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে। অরণ্য ও পরিবেশ দপ্তরের মাধ্যমে ফলের গাছ বিতরণ এবং বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা হয়েছে। পাশাপাশি ২১ জুন বিশ্ব যোগ দিবস উপলক্ষে আয়ুষ, স্বাস্থ্য ও ক্রীড়া দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে বড় আকারে অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে খবর, ওই কর্মসূচিতে পুলিশ, স্কুলের পড়ুয়া, এনসিসি এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ভোট-পরবর্তী আবহে প্রশাসনিক সক্রিয়তা এবং জনসংযোগ— দুইয়ের সমন্বয় ঘটাতেই সরকারের এই তৎপরতা বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।