মুখ্যমন্ত্রী বার্তা দিয়েছেন এলাকার বিধায়কদের ময়দানে নামতে হবে মহিলাদের সাহায্যে। যা শুনে একেবারে ময়দানে সটান নেমে পড়লেন হিঙ্গলগঞ্জের বিধায়ক রেখা পাত্র।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : বিতর্কে অন্নপূর্ণা যোজনার ১২ পাতার ফর্ম। ফর্মের বহর দেখে মাথা ঘুরছে সাধারণ ঘরের মহিলাদের। অনেকের প্রশ্ন বুঝতেই ৯০ দিনের ডেডলাইন পার হয়ে যাবে না তো। যদিও মুখ্যমন্ত্রী বার্তা দিয়েছেন এলাকার বিধায়কদের ময়দানে নামতে হবে মহিলাদের সাহায্যে। যা শুনে একেবারে ময়দানে সটান নেমে পড়লেন হিঙ্গলগঞ্জের বিধায়ক রেখা পাত্র ।
ঘরের লক্ষ্মীদের অন্নপূর্ণার আর্শীবাদ পৌঁছে দিতে একেবারে ময়দানে তিনি। অন্নপূর্ণার ফর্ম নিয়ে পৌঁছে গেলেন মহিলাদের বাড়ির দাওয়ায়। ফর্ম পূরণ থেকে জমা কীভাবে হবে পক্রিয়া। চিন্তা দূর করতে দিলেন পরামর্শও। রেখা পাত্রর হাত থেকে ফর্ম পেয়ে গদগদ হয়ে কেউ কেউ আবার অভাব অভিযোগ ভুলে তুলে নিলেন সেলফিও। অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম বাড়ি বয়ে দিয়ে যাচ্ছেন বিধায়ক তাই আপাতত অভিযোগ ভুলে কীভাবে প্রকল্পের সুবিধা পাবেন তা নিয়েই যত প্রশ্ন ঘুরপাক খেল রেখা পাত্রের কাছে। কীভাবে বিতর্ক সরিয়ে তাঁর বিধানসভা ক্ষেত্রের মহিলাদের ঘরে সুযোগ পৌঁছে দেবেন রেখা পাত্র। অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম ফিলআপ নিয়ে বড় আপ়ডেট দিয়ে দিয়েছেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।
বুধবার রাতেই অনলাইনে আপলোড করে দেওয়া হয়েছে অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম। শুক্রবার থেকেই শুরু হয়ে গেছে ফর্ম ফিলআপ। অফলাইন ও অনলাইনে করা যাচ্ছে ফর্ম ফিলআপ। ১২ পাতার ফর্মে, নিজের ও পরিবার সম্পর্কে নানা তথ্য দিতে হচ্ছে আবেদনকারীদের। যেমন, পরিবার কি মাসিক রেশন তোলে? ৩টির বেশি পাকা ঘর আছে কি? পরিবারের সব সদস্য মিলে মোট জমির পরিমাণ কত? পরিবারে কারও চারচাকা গাড়ি আছে কি?স্বাস্থ্যবিমা আছে কি?পরিবারের সদস্যরা কী ধরনের কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত?ইতিমধ্য়ে অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম ফিলআপ নিয়ে বড় আপ়ডেট দিয়ে দিয়েছেন অগ্নিমিত্রা পাল। লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রাপকরাই পাবে অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা। তবে বাদ যাওযার তালিকায় যেমন মৃত, ভুয়ো প্রাপক, ভোটার তালিকায় ডিলিটরা রয়েছেন তেমনি রয়েছেন সরকারি ও আধা সরকারি কর্মচারী ও তাদের পরিবারবর্গ। আয়কর দেওয়া ও পেনশনভোগীরা। ৩ রা জুন থেকেই উপভোক্তাদের সুবিধা দেওয়ার কাজ শুরু হবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন নারী ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।
এদিকে অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিতে ময়দানে নেমে পড়েছেন রেখা পাত্র। ভোট প্রচারে বেরিয়ে সুন্দরবনের প্রান্তিক এলাকার মানুষের দুয়ারে দুয়ারে ভোট চাওয়ার পাশাপাশি গ্রামবাসীদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ক্ষমতায় এলে লক্ষী ভান্ডারের দেড় হাজার টাকা পেতেন তাদের জন্য অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার চালু করে তিন হাজার টাকা করে প্রতি মাসে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। সেই কথামতো শুক্রবার থেকে সুন্দরবনের প্রান্তিক এলাকার মানুষের দুয়ারে দুয়ার এগিয়ে বিধায়ক রেখা পাত্র, ও হিঙ্গলগঞ্জের বিডিও কে সঙ্গে নিয়ে সেই অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম তুলে দিলেন। রেখা পাত্র বলেন মানুষ লক্ষ্মীর ভান্ডার পেতেন, আমাদের এই অন্নপূর্ণা যোজনা শুধু যেন যোগ্য ব্যক্তিরাই পায় সেদিকে যেমন নজর রেখেছি, সেইরকমই নজর রয়েছে কোন অবৈধ অনুপ্রবেশকারী যেন এই সুযোগ-সুবিধার আওতায় না আসতে পারে।
অন্যদিকে বাঁকুড়ার ছাতনা বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়কও ময়দানে। ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র ফর্ম পূরণে হাত লাগালেন ছাতনার বিজেপি বিধায়ক সত্যনারায়ণ মুখোপাধ্যায়। স্থানীয় বিডিও-কে সঙ্গে নিয়ে তিনি আদিবাসী গ্রাম কুশবোনা গ্রামে গিয়ে ওই ফর্ম পূরণে হাত লাগালেন। বিধায়ক জানিয়েছেন, মানুষ যাতে সমস্যায় না পড়ে তাই তিনি নিজেই এই কাজে হাত লাগিয়েছেন।
বিধায়কের এই উদ্যোগে খুশী আদিবাসী সমাজের মানুষ। তাঁরা অনেকেই পড়াশোনা জানেন না। তাই প্রকল্পের সুবিধা থেকে হয়তো বঞ্চিত হতে হতো। কিন্তু বিধায়ক ঘরে ঘরে ফর্ম বিলি থেকে ফিলাপ করে দেওয়ার প্রক্রিয়া তদারকি করায় খুশি তাঁরা।
১২ পাতার ফর্ম নিয়ে তো মিশ্র পতিক্রিয়া মিলছে জনসমাজে। মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা মতো বিধায়করা যদি অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম ফিলআপে সহায়তা করেন তাহলে বিতর্কের অবকাশ থাকবে না বলেই মত সাধারণ ভোটারদের।