বেশ কয়েকজন প্রতিমন্ত্রী সহ এক ডজনেরও বেশি মন্ত্রীকে বাদ দেওয়া বা বদলি করা হতে পারে বলে কিছু কিছু সূত্রে খবর পাওয়া যাচ্ছে।

শুভঙ্কর চট্টোপাধ্যায়, সাংবাদিক : ১৫ থেকে ১৮ জুনের মধ্যে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় একটি বড়সড় রদবদল হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। বিশেষত নিট-পরীক্ষা প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় এখন সবথেকে চর্চিত মুখ কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। যদিও তিনি প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় বলেছেন, দায়িত্ব তাঁর ও ছিল, যা অস্বীকার করা যায় না। তবে তারপরেও তাঁকে আর কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় রাখা দেওয়া হবে কিনা, সেই নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি নেতৃত্ব রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক পুনর্গঠনের প্রস্তুটি নেওয়ায়, বেশ কয়েকজন প্রতিমন্ত্রী সহ এক ডজনেরও বেশি মন্ত্রীকে বাদ দেওয়া বা বদলি করা হতে পারে বলে কিছু কিছু সূত্রে খবর পাওয়া যাচ্ছে।
বিজেপি সূত্রে খবর, অন্তত দু জন ক্যাবিনেট মন্ত্রী এবং তিনজন প্রতিমন্ত্রীকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হতে পারে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই একজন ক্যাবিনেট পর্যায়ের মন্ত্রীকে দক্ষিণী রাজ্য কর্নাটকে বিজেপি নেতৃত্বের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। এই রদবদল ১০ থেকে ১২ টি মন্ত্রকের নেতৃত্বেও পরিবর্তন করা হতে পারে। এবং বেশ কয়েকজন মন্ত্রীর দফতর বদলেরও সম্ভাবনা রয়েছে।
জেডিইউ, টিডিপি, এনসিপি এবং আরএলএম-র মত এনডিএ জোটের শরিক দলগুলো সম্প্রসারিত মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারে। সম্ভবত জেডিইউ এবং টিডিপি এই দুটি দলের প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি করার সম্ভাবনাও প্রবল। যদিও বেশিরভাগ শরিক দলের সাংসদদের প্রতিমন্ত্রী করার সম্ভাবনা থাকলেও এক বা দুজন সাংসদকে পূর্ণমন্ত্রী করা হতে পারে বলে জল্পনা রয়েছে। বিজেপির শীর্ষ নেতার বলছেন, এই রদবদলের পরিকল্পনা আসন্ন উত্তরপ্রদেশ এবং পঞ্জাবের নির্বাচনকে মাথায় রেখে করা হচ্ছে।
ভারতীয় জনতা পার্টি ইতিমধ্যেই সাংগঠনিক পরিবর্তন শুরু করেছে, যাকে মন্ত্রিসভার রদবদলের পূর্বাভাস হিসাবে দেখা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় অর্থ প্রতিমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধরিকে উত্তরপ্রদেশের বিজেপি সভাপতি নিযুক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে কর্পোরেট বিষয়ক এবং সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক প্রতিমন্ত্রী হর্ষ মালহোত্রাকে দিল্লি বিজেপির সভাপতি হিসাবে মনোনীত করা হয়েছে।
কর্নাটনের বিধানসভা নির্বাচনের আগে মুখ্যমন্ত্রী পদে কংগ্রেস মুখ বদল করার পরে এবার বিজেপিও রাজ্য নেতৃত্বে বদল আনতে পারে। হিংসাবিধ্বস্ত মণিপুরের ক্ষতে প্রলেপ দিয়ে রাজ্যের মানুষের আস্থা কুড়োতে উত্তর-পূর্বের ওই রাজ্যের কোনও সাংসদকে এবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় দেখা যেতে পারে। মণিপুর রাজপরিবারের সদস্য লেইশেম্বা সানাজাওবা এখন বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ। আসন্ন রাজ্যসভা নির্বাচনে তাঁকে ফের রাজ্যসভায় জিতিয়ে এনে মন্ত্রী করা হবে, না কি মন্ত্রিসভার জন্য অন্য কাউকে মণিপুর থেকে জিতিয়ে আনা হবে, তা নিয়ে জল্পনা চলছে।
সূত্রের খবর, বিজেপির নতুন জাতীয় সভাপতি নিতিন নবীন ইতিমধ্যেই দিল্লি, পঞ্জাব-সহ চার রাজ্যে নতুন সভাপতি নিয়োগ করে সাংগঠনিক রদবদলের কাজ শুরু করে দিয়েছেন। রেল, অর্থ, কয়লা, বস্ত্র, কর্পোরেট, ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি, গ্রামোন্নয়ন, সার ও রসায়ন, জল শক্তি, পরিবেশ, আইনের মতো বেশ কিছু মন্ত্রকে পূর্ণমন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী পদে নতুন মুখ দেখা যেতে পারে। যে সব মন্ত্রীর হাতে একাধিক মন্ত্রক রয়েছে, তাঁদের দায়িত্ব কমিয়ে নতুন কাউকে আনা হতে পারে।
বেশ কয়েকজন মন্ত্রী, যাঁদের রাজ্যসভার মেয়াদ এই বছরের শেষের দিকে বা ২০২৭ সালের শুরুতে শেষ হচ্ছে, তাঁদের সাংগঠনিক পদে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে। মূলত তরুণ নেতৃত্বকে জায়গা করে দিতে প্রবীণ সদস্যদের ঘাড়ে কোপ পড়তে চলেছে বলে খবর।
সূত্রে আরও খবর, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও প্রবীণতার নীতির ওপর নির্ভর করে বিজেপি মোর্চার কিছু নেতা প্রথমবারের মতো মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন। এমনও জল্পনা রয়েছে যে, বিহারের একজন ক্যাবিনেট মন্ত্রীর পরিবর্তে একই জাতিগোষ্ঠীর অন্য একজন সাংসদকে আনা হতে পারে।
বিহারে শরিক দলের মধ্যে মন্ত্রী পদ বন্টন নিয়েও বিজেপি নিজেদের মধ্যে আলোচনা চালিয়েছে বলে খবর। দলীয় সূত্রে খবর, মানব সম্পদ উন্নয়ন এবং বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রকে প্রতিমন্ত্রী পর্যায়ের পদগুলি রাজ্য থেকে জোটের সহযোগীদের দেওয়া হতে পারে।
জুন ও নভেম্বরে ৩৪ জন রাজ্যসভার সাংসদ অবসর নেবেন। এনডিএ-র নারী সংরক্ষণ নীতির ওপর জোর দিতে রাজ্যসভা এবং মন্ত্রিসভা উভয় ক্ষেত্রে নারীদের প্রতিনিধিত্ব বিশেষভাবে বাড়ানোর চিন্তাভাবনা করেছে।
পশ্চিমবঙ্গ থেকেও দু জন মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন বলে জল্পনা দেখা দিয়েছে। বাংলার যে দু’জন বিজেপি এমপির নাম নিয়ে তীব্র জল্পনা তৈরি হয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম দলের রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য। দ্বিতীয়জন হলেন বিষ্ণুপুর লোকসভা আসনের বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। যদিও এবিষয়ে প্রকাশ্যে কেউই কোনো মন্তব্য করেননি। ঘনিষ্ঠমহলেও একে জল্পনা বলেই উড়িয়ে দিয়েছেন তাঁরা। মন্ত্রী হলে এক ব্যক্তি এক পদ নীতি মেনে শমীক ভট্টাচার্যকে রাজ্য বিজেপির সভাপতি থেকে পদত্যাগ করতে হবে। বাংলার ক্ষেত্রে এখনই বিজেপির শীর্ষ কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এহেন ঝুঁকি নেবে কি না, সেই ব্যাপারেও চর্চা শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে প্রশ্ন উঠছে, বাংলায় এমন অভাবনীয় সাফল্যের পুরস্কার স্বরূপ এবার কি মোদী মন্ত্রিসভায় অন্তত একজন পূর্ণমন্ত্রী পাবে বঙ্গ বিজেপি?