অভিযোগ, বাসে সিট খালি থাকা সত্ত্বেও কন্ডাক্টর ৩ মহিলাকে ধূপগুড়িতে নেমে অন্য বাসে যেতে বলেন কন্ডাক্টর।

সু্প্রিয় বসাক, নিজস্ব সংবাদদাতা : রাজ্য সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, ১ জুন থেকে সরকারি বাসে মহিলাদের ভাড়া বিনামূল্যে করা হয়েছে। কিন্তু সেই পরিষেবা চালুর প্রথম দিনেই ধূপগুড়িতে সামনে এল এক ভিন্ন ছবি। সরকারি বাস থেকে তিন মহিলাকে নামিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল বাসকর্মীদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, ভুটনিরঘাট থেকে সোনাপুর যাওয়ার জন্য তিন মহিলা একটি সরকারি বাসে ওঠেন। তাঁদের দাবি, বাসে সিট খালি থাকা সত্ত্বেও কন্ডাক্টর তাঁদের ধূপগুড়িতে নেমে অন্য বাসে যেতে বলেন। শেষ পর্যন্ত তাঁরা বাস থেকে নেমে যেতে বাধ্য হন।যাত্রী পুতুল দাস বলেন, সরকার মহিলাদের জন্য ভাড়া ফ্রি করেছে ঠিকই, কিন্তু যদি সরকারি বাসেই উঠতে না দেওয়া হয় তাহলে সেই সুবিধার কী লাভ? তাঁর অভিযোগ, তাঁদের বলা হয় অন্য বাসে যেতে। পরে তাঁরা নিজেদের টাকা খরচ করেই অন্য বাসে রওনা দেন।

আরেক যাত্রী বিনা দাসেরও একই অভিযোগ। তাঁর দাবি, বাসে কয়েকটি সিট খালি ছিল। তবুও তাঁদের নিয়ে যাওয়া হয়নি। তিনজন মহিলাকেই নামিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। ঘটনাস্থলে উপস্থিত মন্টি রায় প্রধান বলেন, সরকার যখন মহিলাদের জন্য এই সুবিধা চালু করেছে, তখন এমন ঘটনা হওয়া উচিত নয়। তিনি ঘটনার তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বাসের কন্ডাক্টর। তাঁর দাবি, কাউকে বাস থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়নি। যাত্রীরা বসার সিট চাইছিলেন, কিন্তু গাড়ি আগে থেকেই ভর্তি ছিল বলে তাঁদের সিট দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে মহিলাদের দাবি, বাসে সিট খালি ছিল। এই নিয়ে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কিছুক্ষণ উত্তেজনাও তৈরি হয়। স্থানীয় কয়েকজনও মহিলাদের পাশে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন তোলেন, মহিলাদের জন্য ভাড়া ফ্রি হওয়ার পরও কেন তাঁদের এভাবে হয়রানির মুখে পড়তে হলো। সরকারি বাসে মহিলাদের বিনামূল্যে যাত্রা পরিষেবা চালুর প্রথম দিনেই এই অভিযোগ সামনে আসায় এলাকাজুড়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। এখন প্রশাসন এই ঘটনার কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে সকলেই।