দিল্লির গেস্ট হাউজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, মৃত অন্তত ২১

প্রাণ বাঁচাতে তিন তলা থেকে ঝাঁপ বাসিন্দাদের

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : দক্ষিণ দিল্লির মালব্য নগরে একটি হোটেল-সহ-অতিথিশালায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন বহু মানুষ। পুলিশ ও দমকল সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার সকালে ‘ফ্লরিশ স্টে বি অ্যান্ড বি’ নামে বহুতল অতিথিশালাতে আগুন লাগে। দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন ভিতরে থাকা অতিথিরা। প্রাণ বাঁচাতে অনেকেই উপরের তলা থেকে ঝাঁপ দিতে বাধ্য হন বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি।

দিল্লি পুলিশের দক্ষিণ জেলার ডেপুটি কমিশনার অনন্ত মিত্তলের বক্তব্য, সকাল ৮টা ৪৮ মিনিট নাগাদ অগ্নিকাণ্ডের খবর আসে। খবর পেয়ে পুলিশ, দমকল এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। দমকলের ৮টি ইঞ্জিনের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। এখনও তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চলছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনায় মৃতদের মধ্যে ১৫ জনেরও বেশি বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। তাঁদের অনেকেই চিকিৎসার জন্য দিল্লিতে এসে ওই অতিথিশালায় উঠেছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী শের খান জানান, প্রথমে আগুন খুব ছোট আকারে দেখা গেলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই তা ভয়াবহ রূপ নেয়। তিনি বলেন, ‘‘সকালে দোকানে যাচ্ছিলাম। প্রথমে সামান্য আগুন ছিল। পরে দ্রুত তা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি এমন হয়ে যায় যে বেরিয়ে আসার কোনও পথ ছিল না। স্থানীয় লোকজন মাটিতে গদি পেতে দেন। তৃতীয় তলা থেকে কয়েক জন, এমনকি একটি ছোট শিশুকেও সেই গদির উপর ঝাঁপ দিতে দেখা যায়।’’

আর এক স্থানীয় বাসিন্দা ওম জানান, ‘‘সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ দেখি পুরো ভবন আগুনে ঘেরা। বিভিন্ন দিক থেকে মানুষ ঝাঁপ দিচ্ছিলেন। অন্তত পাঁচ জনকে লাফ দিতে দেখেছি। একজনের পা ভেঙে যায়।’’

ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন মালব্য নগরের বিজেপি বিধায়ক সতীশ উপাধ্যায়। তাঁর দাবি, দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু না হলে প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারত। তিনি জানান, অতিথিশালাটিতে বাংলাদেশ-সহ বিভিন্ন সার্কভুক্ত দেশের বহু নাগরিক ছিলেন, চিকিৎসার উদ্দেশ্যে দিল্লিতে এসেছিলেন তাঁরা।

কী কারণে আগুন লাগল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। শর্ট সার্কিট, বৈদ্যুতিক ত্রুটি নাকি অন্য কোনও কারণে এই বিপর্যয়, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ ও দমকলের তদন্তকারী দল। দিল্লির বুকে এই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ড ফের এক বার বহুতল ভবনের অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিল।

এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে দুঃখপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। প্রধানমন্ত্রী এক্স পোস্টে জানিয়েছেন, মৃতদের পরিবারকে প্রাইম মিনিস্টার ন্যাশনাল রিলিফ ফান্ড থেকে ৩ লক্ষ টাকা করে অর্থ সাহায্য দেওয়া হবে। আহতদের ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হবে।