মগরাহাটে ত্রিপল সরানো ঘিরে চাঞ্চল্য, অভিযোগের তির প্রাক্তন পঞ্চায়েত কর্মাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে — তদন্তের দাবিতে বিজেপি।

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাট ২ নম্বর ব্লকে ত্রিপল সরানোকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ব্লকের প্রাক্তন পঞ্চায়েত কর্মাধ্যক্ষ রবিন সাহার বাড়ি থেকে বুধবার দুপুর প্রায় আড়াইটে নাগাদ দু’টি মোটরভ্যান বোঝাই করে বিপুল পরিমাণ ত্রিপল অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, যদিও পরিস্থিতি ছিল শান্তিপূর্ণ এবং কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই সময় তপন নামে এক বিজেপি নেতা মোটরভ্যান চালকদের কাছে জানতে চান, ত্রিপলগুলি কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। অভিযোগ, চালকদের উত্তরে অসঙ্গতি ধরা পড়ায় সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়। এরপর দ্রুত স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বকে খবর দেওয়া হয়। বিজেপি নেতা পলাশ হালদারের নেতৃত্বে ফোনের মাধ্যমে এলাকার একাধিক নেতাকর্মীকে ঘটনাস্থলে ডাকা হয় বলে দাবি স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত না করে প্রশাসনিক পথে সমাধানের চেষ্টা করা হয় বলে দাবি বিজেপি নেতৃত্বের। পরে অঞ্চল সভাপতি তারক মণ্ডলের উদ্যোগে প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, বিপুল পরিমাণ ত্রিপল কী উদ্দেশ্যে সরানো হচ্ছিল, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ওই সামগ্রী আটকে রাখা হয়েছে বলেও দাবি স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের একাংশের।
ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় নানা রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় মহলে বারবার উঠে আসছে প্রাক্তন বিধায়ক নমিতা সাহার নাম। অভিযোগকারীদের একাংশের দাবি, রবিন সাহা তাঁর ভাই হওয়ায় গোটা ঘটনায় রাজনৈতিক প্রভাবের প্রশ্ন উঠছে। যদিও এ বিষয়ে নমিতা সাহা বা রবিন সাহার তরফে আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও সামনে আসেনি।
স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য, তাঁরা কোনও উত্তেজনা সৃষ্টি করতে চাননি। শান্তিপূর্ণভাবে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়ে পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, যদি সরকারি বা ত্রাণ সংক্রান্ত কোনও সামগ্রী অন্যত্র সরানোর চেষ্টা হয়ে থাকে, তাহলে তার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যেও ঘটনাটি নিয়ে কৌতূহল ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। ত্রিপলগুলি কোথা থেকে এল, কেন সেগুলি সরানো হচ্ছিল এবং কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল— এই সব বিষয় নিয়ে প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠছে। বর্তমানে গোটা এলাকার নজর প্রশাসনের দিকেই। অভিযোগের সত্যতা কতটা, তদন্তে কী উঠে আসে এবং আদৌ কোনও অনিয়ম হয়েছে কি না, এখন সেই দিকেই তাকিয়ে রয়েছে মগরাহাটের মানুষ।