বিশ্বের বৃহত্তম দই-মিষ্টি দই উৎপাদন কেন্দ্র গড়ার পরিকল্পনা।

রণজিৎ রায়, নিজস্ব সংবাদদাতা : বাংলার শিল্প মানচিত্রে নতুন সংযোজন হতে চলেছে একটি বৃহৎ দুগ্ধ প্রক্রিয়াকরণ প্রকল্প। হাওড়ার সাঁকরাইলে বিশ্বের বৃহত্তম দই, মিষ্টি দই এবং লস্যি উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেছে আমূল। গুজরাত কো-অপারেটিভ মিল্ক মার্কেটিং ফেডারেশন (জিসিএমএমএফ)-এর এই প্রকল্পকে ঘিরে ইতিমধ্যেই শিল্পমহল এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে।
নবান্ন সূত্রে খবর, রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষস্তরের সঙ্গে আমূল কর্তৃপক্ষের একাধিক বৈঠকের পর প্রকল্পের রূপরেখা চূড়ান্ত হয়েছে। সাঁকরাইল ফুড পার্কে প্রায় ১৫ একর জমির উপর গড়ে উঠবে এই আধুনিক ডেইরি প্রসেসিং কমপ্লেক্স। প্রকল্পে বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ কোটি টাকা বলে জানা গিয়েছে।

আমূল সূত্রে দাবি, কারখানাটি চালু হলে প্রতিদিন প্রায় ১৫ লক্ষ লিটার দুধ প্রক্রিয়াকরণ করা সম্ভব হবে। সেই দুধ থেকে প্রতিদিন প্রায় ১০ লক্ষ কিলোগ্রাম দই, মিষ্টি দই, লস্যি, ঘোল, পনির-সহ বিভিন্ন দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদনের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। উৎপাদন ক্ষমতার নিরিখে এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম দুগ্ধ প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
এই প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক কর্মসংস্থান। শিল্প দফতরের একাংশের মতে, কারখানাটি চালু হলে সরাসরি ও পরোক্ষ ভাবে কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। উৎপাদন, প্যাকেজিং, পরিবহণ, কোল্ড-চেন ব্যবস্থাপনা এবং বিপণনের মতো ক্ষেত্রেও নতুন কাজের সুযোগ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। স্থানীয় যুবকদের জন্য এটি বড় সুযোগ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বাসিন্দারা।

শুধু কর্মসংস্থানই নয়, লাভবান হবেন রাজ্যের দুগ্ধচাষিরাও। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ দুধ সংগ্রহের জন্য আমূল সরাসরি সমবায় সমিতি ও স্থানীয় খামারিদের সঙ্গে কাজ করবে বলে জানা গিয়েছে। এর ফলে চাষিরা ন্যায্য মূল্য পাওয়ার পাশাপাশি বাজার ব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন। গ্রামীণ অর্থনীতিতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে আমূলের বিপুল বাজার থাকলেও রাজ্যে এত বড় নিজস্ব উৎপাদন কেন্দ্র ছিল না। ফলে অন্য রাজ্য থেকে পণ্য আনতে অতিরিক্ত খরচ হত। নতুন প্রকল্প চালু হলে পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি ওড়িশা, বিহার এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে দ্রুত ও কম খরচে দুগ্ধজাত পণ্য সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
শিল্পমহলের মতে, সাঁকরাইলের এই প্রকল্প শুধু একটি কারখানা নয়, বরং পশ্চিমবঙ্গে নতুন শিল্প বিনিয়োগের সম্ভাবনা ও আস্থার প্রতীক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।