কার্শিয়াং থেকে বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : উত্তরবঙ্গের মানুষের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণের বার্তা নিয়ে মঙ্গলবার কার্শিয়াঙে পৌঁছলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পাহাড়ের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির উপর যে আস্থা রেখেছেন, তার ‘ঋণ শোধ’ করার সময় এসেছে বলে জানালেন তিনি। কার্শিয়াঙের মন্টেভিট গ্রাউন্ডে আয়োজিত জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট ঘোষণা, ‘‘আমি পাহাড়ে ঘুরতে আসব না, উন্নয়নের কাজ করতে আসব।’’
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু বলেন, ২০০৯ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে দার্জিলিং ও পাহাড়ের মানুষ বিজেপিকে সমর্থন করে আসছেন। সেই আস্থার মর্যাদা দিতেই পাহাড়ের জন্য আলাদা উন্নয়ন রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, নির্বাচনী ইস্তাহারে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে রাজ্য সরকার। কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির সুবিধাও যাতে পাহাড়ের প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছয়, তা নিশ্চিত করা হবে।
চা-শ্রমিকদের সমস্যার প্রসঙ্গও উঠে আসে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে। তিনি অভিযোগ করেন, আগের সরকারের দুর্নীতির কারণে বহু প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়নি। বন্ধ হয়ে থাকা ২৫টি চা-বাগানের জন্য ৩৩৪ কোটি টাকার উন্নয়নমূলক কাজ দ্রুত শুরু হবে বলে ঘোষণা করেন তিনি। পাশাপাশি টি-বোর্ডের চেয়ারম্যানকে বিশেষ দায়িত্ব দিয়ে চা-বাগানগুলির পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথাও জানান।
তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে শুভেন্দুর অভিযোগ, ‘‘তোলাবাজি ও কাটমানির রাজত্ব চলেছে এতদিন। জিটিএ-তেও দুর্নীতি হয়েছে। নতুন সরকার কোনও দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেবে না।’’ তিনি বলেন, অতীতের সমস্ত অনিয়মের তদন্ত হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পাহাড়বাসীদের উদ্দেশে আরও একাধিক আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী। গোর্খাদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ‘মিথ্যা মামলা’ প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি পুলিশে স্বচ্ছ নিয়োগ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্পের পূর্ণ সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
কালিম্পঙে মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন, কার্শিয়াং হাসপাতালের আধুনিকীকরণ, সরকারি স্কুলে স্মার্ট ক্লাসরুম এবং ‘খেলো ইন্ডিয়া’ প্রকল্পের মাধ্যমে ক্রীড়া পরিকাঠামো গড়ে তোলার ঘোষণাও করেন মুখ্যমন্ত্রী।
সভায় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় ও রাজ্য স্তরের একাধিক বিজেপি নেতা, সাংসদ রাজু বিস্তা, হর্ষবর্ধন শ্রিংলা, নিশিথ প্রামাণিক-সহ পাহাড়ের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা। রাজনৈতিক ঐক্যের বার্তাও উঠে আসে সভামঞ্চ থেকে। উত্তরবঙ্গকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে উন্নয়নের নতুন অধ্যায় শুরু করার আশ্বাস দিয়েই সফর শেষ করেন মুখ্যমন্ত্রী।