তদন্তকারীরা দুর্গের প্রবেশদ্বারের কাছে থাকা সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখতে গিয়ে দেখতে পান, কেতন ও সিয়ার কিছুটা পিছনে এক যুবক হাঁটছেন।
আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : সিসিটিভির এক ঝলকেই মিলল খুনের সূত্র! প্রথমে মনে হয়েছিল নিছক দুর্ঘটনা। ট্রেকিং করতে গিয়ে পুণের কাছে লোহাগড় দুর্গের গভীর খাদে পড়ে মৃত্যু হয়েছে তরুণ ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়ালের। কিন্তু তদন্ত যত এগিয়েছে, ততই সামনে এসেছে এক শীতল মাথার খুনের অভিযোগ। আর সেই তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দেয় দুর্গের প্রবেশপথে লাগানো একটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ।

গত ১৮ জুন পুণের কাছে ঐতিহাসিক লোহাগড় দুর্গে ট্রেকিং করতে গিয়েছিলেন ২৬ বছরের কেতন আগরওয়াল এবং তাঁর হবু স্ত্রী সিয়া গোয়াল। সেখান থেকেই খাদে পড়ে মৃত্যু হয় কেতনের। প্রথমে সিয়া পুলিশকে জানান, ট্রেকিংয়ের সময় পা পিছলে দুর্ঘটনাবশত খাদে পড়ে গিয়েছিলেন কেতন। সেই বয়ানের ভিত্তিতেই প্রথমে অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে পুলিশ।
তবে কেতনের পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ ছিল প্রথম থেকেই। তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে পুলিশ। আর তখনই সামনে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য।
তদন্তকারীরা দুর্গের প্রবেশদ্বারের কাছে থাকা সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখতে গিয়ে দেখতে পান, কেতন ও সিয়ার কিছুটা পিছনে এক যুবক হাঁটছেন। তাঁর পরনে ছিল শর্টস এবং একটি হুডি। হুডিটি এমন ভাবে মুখের উপর টানা ছিল যে, তাঁর চেহারা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল না। শুধু তা-ই নয়, কানে ছিল হেডসেটও।
পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ঘটনার দিন এলাকায় তাপমাত্রা ছিল প্রায় ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সেই প্রচণ্ড গরমে মুখ ঢেকে, হুডি পরে ট্রেকিং করতে আসা অস্বাভাবিক বলেই মনে হয়েছিল তদন্তকারীদের। আরও একটি বিষয় তাঁদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ফুটেজে দেখা যায়, এক সময়ে সিয়া আচমকা পিছন ফিরে তাকান। ঠিক সেই মুহূর্তেই ওই হুডি পরা যুবক বসে পড়েন। এই ঘটনাই তদন্তকারীদের সন্দেহ আরও বাড়িয়ে দেয়।
পরে তদন্তে ওই যুবকের পরিচয় জানা যায়। তিনি ২২ বছরের চেতন চৌধুরি। পুলিশ দাবি করেছে, সিয়া ও চেতনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। কয়েক মাস আগেই তাঁরা কেতনকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন।

প্রযুক্তিগত তথ্য, সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, বিয়ে নিয়ে সিয়ার আপত্তি ছিল। কেতনের এক কাকার দাবি, সিয়া বিয়ে এক বছর পিছিয়ে দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কেতন ও সিয়ার বাগ্দান সম্পন্ন হয়েছিল। আগামী নভেম্বরে উদয়পুরে রাজকীয় আয়োজনের মধ্যেই তাঁদের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। সেই জন্য একটি প্রাসাদও বুক করেছিল আগরওয়াল পরিবার। কিন্তু বিয়ের আগেই মৃত্যু, প্রেম এবং বিশ্বাসঘাতকতার এই ঘটনায় শোকস্তব্ধ দুই পরিবার। সিয়া গোয়াল ও চেতন চৌধুরীর বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু করে তদন্তে নেমেছে পুলিশ।