তারাতলা-কাণ্ডের পিছনে ‘বড় রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব’?

তারাতলা-কাণ্ডে ‘বড় রাজনৈতিক নাম’ জড়িত থাকতে পারে, বিস্ফোরক দাবি দিলীপ ঘোষের

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : তারাতলার নির্মীয়মাণ গুদামঘর ধসের ঘটনায় শুধু নির্মাণ সংস্থার কর্মী বা শ্রমিক সরবরাহকারীরাই নন, এর সঙ্গে ‘বড় রাজনৈতিক নাম’ও জড়িত থাকতে পারে বলে বিস্ফোরক দাবি করলেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, ঘটনার নেপথ্যে থাকা দুর্নীতির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হবে এবং কোনও দোষীকেই রেয়াত করা হবে না।

বুধবার দুপুরে তারাতলার ব্রেস ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় একটি নির্মীয়মাণ গুদামঘরের ছাদ ভেঙে পড়ে। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১১ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যেই তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন নির্মাণস্থলের সুপারভাইজার এবং দুই শ্রমিক সরবরাহকারী। তবে শুধু এই কয়েক জনের গ্রেফতারেই তদন্ত থেমে থাকবে না বলে স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন দিলীপ ঘোষ।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘‘দুর্নীতির তদন্ত হবে এবং দোষীদের শাস্তি দেওয়া হবে। আমাদের সরকার এই কাজ শুরু করেছে। কাউকে ছাড়া হবে না। শুধু চার জন নয়, এর পিছনে আরও বড় রাজনৈতিক নাম থাকতে পারে। সব কিছুই সামনে আসবে।’’

একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, বাইরে থেকে আনা শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করানো হচ্ছিল এবং সেই কারণেই নিরীহ শ্রমিকদের প্রাণ যাচ্ছে। ‘‘এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক,’’ মন্তব্য তাঁর।

তারাতলার দুর্ঘটনার প্রসঙ্গে রাজ্যের প্রাক্তন বামফ্রন্ট এবং তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধেও তোপ দাগেন দিলীপ। তাঁর দাবি, ‘‘সিপিএম আমলে বাংলার একের পর এক বাজারে আগুন লেগেছে। বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে, হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি নষ্ট হয়েছে। আবার তৃণমূল আমলে বারবার সেতু এবং উড়ালপুল ভেঙে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। বড়বাজার উড়ালপুল ভেঙে বহু মানুষের প্রাণহানি হয়েছিল।’’

দিলীপের অভিযোগ, তারাতলার ঘটনাও দুর্নীতিরই ফল। তাঁর প্রশ্ন, ‘‘এত বড় একটি নির্মাণ কী ভাবে ভেঙে পড়ল? যদি ভবনটির নির্মাণ সম্পূর্ণ হয়ে সেখানে মানুষ বসবাস শুরু করতেন, তা হলে কত বড় বিপর্যয় ঘটতে পারত, তা ভাবলেও আতঙ্ক হয়।’’

ঘটনার পর থেকেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে ভারতীয় সেনাবাহিনী, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), দমকল এবং পুলিশ। পাশাপাশি, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন। এখন তদন্তে ঠিক কী তথ্য উঠে আসে, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।