৩১ জুলাই পর্যন্ত কলকাতায় নির্মাণকাজে স্থগিতাদেশ

তারাতলা বিপর্যয়ের পর কড়া পুরসভা, ৩১ জুলাই পর্যন্ত কলকাতায় সমস্ত নির্মাণকাজে স্থগিতাদেশ

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদাম ধসের ঘটনায় এখনও শোকস্তব্ধ কলকাতা। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪। আহত অন্তত ১৯ জন। ঘটনার পর জননিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে কড়া পদক্ষেপ করল কলকাতা পুরসভা। আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত শহরের সর্বত্র সমস্ত নির্মাণকাজ স্থগিত রাখার নির্দেশ জারি করেছে কলকাতা পুরসভা (কেএমসি)।

বুধবার রাতে জারি হওয়া পুরসভার বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, কলকাতা পুরসভার আওতাধীন ১ থেকে ১৬ নম্বর বরোর মধ্যে কোনও নির্মাণকাজ আপাতত করা যাবে না। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অথবা আগামী ৩১ জুলাই— যেটি আগে হবে, সেই সময় পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।

পুরসভার তরফে জানানো হয়েছে, তারাতলায় নির্মীয়মাণ বহুতল সদৃশ গুদাম ভেঙে পড়ার ঘটনায় বহু শ্রমিক ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়েন। প্রাণহানি এবং উদ্ধারকর্মীদের নিরাপত্তার ঝুঁকির কথা বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কলকাতা পুর আইন, ১৯৮০-এর ৩৭ নম্বর ধারার ক্ষমতা প্রয়োগ করে এই নির্দেশ জারি করা হয়েছে।

পুরসভার বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘‘এই ধরনের দুর্ঘটনার ফলে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়েছে এবং জরুরি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তাই জনস্বার্থে সমস্ত নির্মাণকাজ সাময়িক ভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’’

প্রসঙ্গত, বুধবার দুপুর প্রায় ১২টা ৭ মিনিট নাগাদ ব্রেস ব্রিজ সংলগ্ন তারাতলা এলাকায় নির্মীয়মাণ একটি গুদামঘরের ছাদ আচমকাই ভেঙে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় গোটা কাঠামো। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, পুলিশ এবং পুরসভার উদ্ধারকারী দল। রাতভর চলে উদ্ধার অভিযান। এখনও ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চলছে। প্রশাসনের আশঙ্কা, ধ্বংসস্তূপের নীচে আরও কেউ আটকে থাকতে পারেন।

এ দিকে, ঘটনায় দায় নির্ধারণে তদন্তও জোরদার হয়েছে। কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ) কুণাল আগরওয়াল বৃহস্পতিবার জানান, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে দায়ের হওয়া এফআইআরে নাম থাকা চার অভিযুক্তকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি, এফআইআরে নাম না থাকা আরও এক ব্যক্তিকেও আটক করা হয়েছে।

ঘটনার তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) এবং কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ যৌথ ভাবে কাজ করছে। নির্মাণে গাফিলতি, নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন এবং অনুমোদন সংক্রান্ত সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।