প্রধানমন্ত্রীকেই চ্যালেঞ্জ দিলেন অভিজিৎ !

“কোন পোস্ট বা টুইট সরকারের কাছে আপত্তিকর বলে মনে হয়েছে?”

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : সিজেপি । বয়স বেশিদিন না হলেও প্রতিবাদের ধরন মন ছুঁয়েছে অগণিতের। ককরোচ জনতা পার্টির আওয়াজ কাঁপিয়ে দিয়েছে দিল্লির যন্তর মন্তর। সোশ্য়াল মিডিয়াতে পথচলা।প্রথমে ভারতে নিষিদ্ধ হয়েছে ককরোচ জনতা পার্টিক ইনস্ট্রাগ্রাম অ্যাকাউন্ট। কিন্তু থামানো যায়নি সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে-কে। সরাসরি কোনও রাজনৈতিক দলের অংশ না হয়েও সমর্থন পেয়েছেন দেশের যুবসমাজের। ব্লক করা হয় সিজেপির এক্স অ্যাকাউন্ট। অভিজিৎ দিপকের অভিযোগ, এবিষয়ে স্পষ্ট করা হয়নি কোনও কারন। এবার কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিলেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা।

বুধবার তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের পর্যালোচনা কমিটির সামনে হাজির হওয়ার পর তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর দলের অ্যাকাউন্ট কেন বন্ধ করা হয়েছে, সেই বিষয়ে সরকার কোনও নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দিতে রাজি হয়নি। শুধু তাই নয়, যে সরকারি নির্দেশের ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সেটিও তাঁকে দেখানো হয়নি। দিপকের দাবি, শুনানির সময় তিনি সরাসরি ব্লকিং অর্ডারের কপি চেয়েছিলেন। কিন্তু মন্ত্রকের প্রতিনিধিরা জানান, সেই নথি ‘গোপনীয়’ বা ‘কনফিডেনশিয়াল’, তাই তা প্রকাশ করা যাবে না। এরপর তিনি জানতে চান, কোন পোস্ট বা টুইট সরকারের কাছে আপত্তিকর বলে মনে হয়েছে। কিন্তু সেই ক্ষেত্রেও একই উত্তর দেওয়া হয়— বিষয়টি গোপনীয়, তাই কোনও তথ্য ভাগ করে নেওয়া সম্ভব নয়।

গোটা ঘটনায় সংবাদমাধ্যমের সামনে ক্ষোভ উগড়ে দেন অভিজিৎ। সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা জানান, অ্যাকাউন্ট যদি নিষিদ্ধই করা হয়ে থাকে, তাহলে কেন তা করা হয়েছে, সেটাও কি জানার অধিকার তার নেই? কোন বক্তব্যের জন্য এই পদক্ষেপ, সেটাও যদি না জানানো হয়, তাহলে তিনি নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করবেন কীভাবে?” তাঁর মতে, প্রশাসনের এই অবস্থান স্বাভাবিক বিচারপ্রক্রিয়া এবং স্বচ্ছতার নীতির পরিপন্থী। এই ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের এক শীর্ষ আধিকারিকের দাবি,সিজেপির বিরুদ্ধে পাকিস্তানের সঙ্গে যোগাযোগ বা সম্পর্ক থাকার অভিযোগ সামনে আসার পরই তদন্ত শুরু হয়। সেই তদন্তের ভিত্তিতেই এক্স অ্যাকাউন্ট ব্লক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তাঁর বক্তব্য। যদিও এই অভিযোগের পক্ষে কোনও নথি বা প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি।সরকারি সূত্রের এই দাবি নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।অতীতেও ভারতীয় জনতা পার্টির নেতারা একই ধরনের অভিযোগ করেছেন।দিপকে তাঁর এক্স অ্যাকাউন্ট ব্লক করার সরকারি নির্দেশের বিরুদ্ধে দিল্লি হাইকোর্টেও আবেদন করেছেন । অ্যাকাউন্টটি পুনরুদ্ধারের দাবিতে দিপকের করা আবেদনের শুনানি শেষে, হাইকোর্ট ২৯শে মে ‘তথ্য প্রযুক্তি বিধিমালা, ২০০৯’-এর ১৪ নং বিধি অনুসারে গঠিত কেন্দ্রের পর্যালোচনা কমিটির সামনে তাঁর বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ দেয়। এই কমিটিই অ্যাকাউন্ট ব্লক করার আদেশগুলো খতিয়ে দেখে থাকে। হাইকোর্ট কমিটিকে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে পরবর্তী শুনানির দিন, অর্থাৎ ৭ই জুলাই, আদালতের সামনে তাদের সিদ্ধান্ত পেশ করার নির্দেশও দিয়েছে।

তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৯এ ধারার অধীনে ২১শে মে ভারতে ককরোচ জনতা পার্টির এক্স হ্যন্ডেলটি স্থগিত করা হয়। যা সরকারকে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে অনলাইন মধ্যস্থতাকারীদেরকে কোনো বিষয়বস্তুতে প্রবেশাধিকার বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়ার অধিকার দেয়।যুব নেতৃত্বাধীন সংগঠন সিজেপি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস, নিয়োগে বিলম্ব এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় কথিত অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে। যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ করছে এবং পরীক্ষা-সংক্রান্ত বিষয়ে সরকারের কাছে জবাবদিহিতা দাবি করেছে।সোচ্চার হয়েছে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্য়াগের দাবিতে।বিক্ষোভের পঞ্চম দিনে, দলটির ‘এক্স’ অ্যাকাউন্ট আটকে রাখার বিষয়ে দিপকে ইলেকট্রনিক্স ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রকের একটি কমিটির সামনে হাজির হন। অভিযোগ সেখানেই গোপনীয়তার অজুহাতে দিপককে সঠিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।আর এর রেশ ধরেই অভিজিৎ প্রশ্ন তোলেন , নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কেন একই ধরনের গোপনীয়তা বজায় রাখা হয়নি।সেটা কেন ফাঁস হলো? তাহলে এই আত্মহত্যাগুলো ঘটত না।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিশানা করে অভিজিৎ দিপকে বলেন,”প্রধানমন্ত্রী মোদী যদি রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধ বন্ধ করতে পারেন, তবে তিনি ভারতে পেপার লিক বন্ধ করতে পারবেন না কেন?”সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান সিজেপি-কে “সন্ত্রাসীবাদীদের বি-টিম” বলে অভিহিত করে যে সাম্প্রতিক মন্তব্য করেছিলেন, তারও জবাব দিয়েছেন দীপকে। “আমাদের সন্ত্রাসীবাদী বলতে আপনার লজ্জা করে না? ছাত্ররাই যদি সন্ত্রাসীবাদী হয়, তাহলে আর কে বাকি রইল যে সন্ত্রাসীবাদী নয়?” ‘আমি তেলাপোকা, সন্ত্রাসীবাদী নই’ লেখা পোস্টারে সজ্জিত একটি মঞ্চ থেকে দিপকে এই কথা বলেন। সিজেপির-তরফে বারবার দাবি করা হয়, প্রধান পদত্যাগ করলে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করতে প্রস্তুত। তবে কেন্দ্রের তরফে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি বলে দাবি।কেন্দ্রকে নিশানা করে অভিজিৎ প্রশ্ন তোলেন,আমরা কি ভোট চাইছি? আমরা ন্যায়বিচার চাইছি। আমরা করদাতা, আমাদের বাবা-মাও করদাতা, আর আপনারা আমাদের সন্ত্রাসীবাদী বলেন। আপনাদের কি লজ্জা হয় না?

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুক্রবার সপ্তম দিনে পড়ে। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে যন্তর মন্তরে কড়া বার্তা দিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের জন্মদিন উদযাপন করেন।একটি ভিডিওতে দেখা যায়, দিপকে একটি হোয়াইটবোর্ডে লিখছেন, “শুভ জন্মদিন, প্রধান। দয়া করে পদত্যাগ করুন,” সঙ্গে সমর্থকেরা জন্মদিনের গান গাইছেন। বার্তাটি লেখার পর দিপকে বলেন, “শুভ জন্মদিন, ধর্মেন্দ্র প্রধান। আমাদের একটা উপকার করুন আর পদত্যাগ করুন। জন্মদিনের উপহার হিসেবে আমরা আপনাকে পদত্যাগপত্রটিও পাঠিয়ে দিতে পারি—আপনাকে শুধু এর ওপর আপনার আঙুলটা রাখতে হবে।”

ইতিমধ্যেই সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকের ডাকে সারা দিয়ে আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন কৃষকরা।জলবায়ু কর্মী তথা সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক বৃহস্পতিবার ঘোষণা করেছেন , নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত দাবিতে সরকার সাড়া দিতে ব্যর্থ হলে তিনি ২৮ জুন থেকে যন্তর মন্তরে অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশন শুরু করবেন।বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকেই ওয়াংচুক প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দিপককে সমর্থন জানিয়ে আসছেন। ৬ জুন দলটির প্রথম বিক্ষোভে এবং এরপর থেকে আরও অনেক বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন তিনি।এককথায় যত দিন এগোচ্ছে ততই দিল্লির যন্তর মন্তরে জোরদার হচ্ছে সিজেপির প্রতিবাদ। অফলাইনে ব্যান হলেও অফলাইনে বৃদ্ধি পাচ্ছে সমর্থকের সংখ্যা।