ফের উত্তপ্ত পশ্চিম এশিয়া

ফের ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ শুরু, পাল্টা হামলায় উত্তপ্ত পশ্চিম এশিয়া

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : শুক্রবার গভীর রাতে ইরানে ফের হামলা চালিয়েছে আমেরিকা। ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ভাণ্ডার লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। হামলা চালানো হয়েছে উপকূলীয় রেডার কেন্দ্রগুলিতেও। এর পাল্টা ওই অঞ্চলে আমেরিকার ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালাতে শুরু করেছে ইরানও।ইরানের উপকূলে বিমান হামলা চালিয়ে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘনের জন্য ওয়াশিংটনকে অভিযুক্ত করার পর, আইআরজিসি জানিয়েছে যে তাদের নৌবাহিনী এই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক অবস্থানে হামলা চালিয়েছে।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, হরমুজ প্রণালীতে তথাকথিত অননুমোদিত পথ দিয়ে একটি জাহাজের যাতায়াত এবং লেবানন যুদ্ধবিরতি ইজরায়েলের লঙ্ঘনের জবাবে ইরানের প্রতিক্রিয়ার জেরেই এই মার্কিন হামলা চালানো হয়। আইআরজিসি বলেছে, সমঝোতা স্মারকের ৫ নম্বর ধারা অনুযায়ী হরমুজ প্রণালীর চলাচল নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব ইরানের ওপর ন্যস্ত এবং যুক্তরাষ্ট্রকে এই লঙ্ঘনে উস্কানি দিয়ে সেই ব্যবস্থা দুর্বল করার চেষ্টার জন্য অভিযুক্ত করেছে। আইআরজিসি সতর্ক করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো ধরনের আরও আগ্রাসনের জবাব আরও ব্যাপক আকারে দেওয়া হবে।

সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, আমেরিকার হামলার জবাবে পাল্টা আঘাত হানতে শুরু করেছে ইরানও। ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ডস আমেরিকার একাধিক ঘাঁটিকে নিশানা করেছে। আমেরিকাকে মুখের মতো জবাব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে তারা। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, গভীর রাতে দক্ষিণের বন্দর শহর তাহেরুয়েতে হামলা চালানো হয়েছে। প্রজেক্টাইল ছোড়া হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা। অন্য দিকে, আমেরিকার দাবি, হরমুজ প্রণালী পেরনোর সময় একদিন আগে মালবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছিল তেহরান।

হরমুজে মালবাহী জাহাজে হামলার ঘটনায় গতকালই কড়া বার্তা দিয়েছিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য ছিল, “আমাদের শান্তিচুক্তি লঙ্ঘন করে নিঃসন্দেহে বোকামি করেছে ওরা।” এর ঠিক পর পরই ইরানে হামলা চালানোর কথা প্রকাশ করে ইউএস সেন্ট্রাল কম্যান্ড (সেন্টকম) । আমেরিকার এই হামলায় হরমুজ খুলে রাখা নিয়ে নতুন করে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দুই দেশের মধ্যে যে শান্তি-আলোচনা চলছে, তাও প্রভাবিত হবে বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল।

ইরানি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, হরমুজ প্রণালী অঞ্চলে লক্ষ্যবস্তুতে মার্কিন হামলার বিষয়ে বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী এক বিবৃতিতে লিখেছে: “ইরানের ভূখণ্ড ও জলসীমার ওপর সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য আমাদের নৌ ও বিমান বাহিনী এই হামলা প্রতিহত করতে এবং হামলাকারী বাহিনীকে পিছু হটতে বাধ্য করতে সফল হয়েছে।”আইআরজিসি আরও বলেছে: “আমরা জোর দিয়ে বলছি যে এই আগ্রাসনের জবাব না দিয়ে থাকা যাবে না এবং আমাদের নির্বাচিত সময় ও স্থানে এর প্রতিক্রিয়া হবে দ্রুত ও চূড়ান্ত।”

আইআরজিসি-র বিবৃতিতে বলা হয়েছে: “আমরা সতর্ক করছি যে, যেকোনো নতুন মূর্খতার কঠোর জবাব দেওয়া হবে, যা এই অঞ্চলের আগ্রাসনকারীদের ভ্রান্ত ধারণা চূর্ণবিচূর্ণ করে দেবে।”