ভিক্টোরিয়া হাউসে সভার অনুমতি চেয়ে পুলিশের দ্বারস্থ তৃণমূলের দুই শিবির।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসের মঞ্চ নিয়েই এ বার প্রকাশ্যে দ্বন্দ্বে জড়াল তৃণমূলের দুই শিবির। কলকাতার ধর্মতলার ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে একই দিনে শহিদ দিবস পালন করার অনুমতি চেয়ে কলকাতা পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছে উভয় পক্ষ। আর তা ঘিরেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে ইতিমধ্যেই কলকাতার পুলিশ কমিশনারের কাছে চিঠি দিয়ে ১৯ থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত প্রয়োজনীয় অনুমতি চাওয়া হয়েছে। চিঠিতে জানানো হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ২১ জুলাই ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে শহিদ দিবস পালিত হয়ে আসছে এবং এ বারও সেই ঐতিহ্য বজায় রাখা হবে।
তৃণমূল সাংসদ দোলা সেন বলেন, ‘‘১৯৯৩ সালে ১৩ জন কর্মীর মৃত্যুর স্মৃতিতে ১৯৯৪ সাল থেকে টানা ৩৩ বছর ধরে আমরা শহিদ দিবস পালন করে আসছি। এ বছরের কর্মসূচিতে নতুন কিছু নেই।’’
কিন্তু দলের ‘বিদ্রোহী’ শিবিরও একই কর্মসূচি আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়ায় রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। সেই প্রসঙ্গে দোলা বলেন, ‘‘মিডিয়ার মাধ্যমে জেনেছি, ওরা দলীয় নাম ও প্রতীক ব্যবহারের অধিকার চেয়ে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে। এখনও কমিশন কোনও সিদ্ধান্ত জানায়নি। তা হলে কী ভাবে ওরা একই নামে কর্মসূচি ঘোষণা করছে?’’
দোলার আরও অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন ছাড়া দলীয় নাম ও প্রতীক ব্যবহার করে সভা করা সম্পূর্ণ বেআইনি। তিনি জানান, এ বিষয়ে তিনি ব্যক্তিগত ভাবে লালবাজারের সাইবার ক্রাইম শাখায় অভিযোগও দায়ের করেছেন।
অন্য দিকে, তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের পক্ষ থেকেও একই স্থানে সভা করার আবেদন জানানো হয়েছে বলে সূত্রের খবর। ফলে শেষ পর্যন্ত কোন পক্ষ অনুমতি পাবে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
মমতা শিবিরের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ হয়ে উঠেছে ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবস। সেই ঐতিহ্য অটুট রাখতেই এ বছরের কর্মসূচির আয়োজন করা হচ্ছে। সভা শেষ হওয়ার নির্ধারিত সময় বিকেল ৪টে হলেও বিপুল জনসমাগমের কারণে ভিড় ছত্রভঙ্গ হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে বলেও প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।
এখন নজর কলকাতা পুলিশের সিদ্ধান্তের দিকে। একই দিন, একই স্থানে দুই শিবিরের সভার আবেদন ঘিরে শেষ পর্যন্ত প্রশাসন কী পদক্ষেপ করে, সেটাই দেখার।