স্নানযাত্রায় জনসমুদ্র পুরী

১০৮ কলসের পবিত্র স্নানে মহাপ্রভু, শুরু রথযাত্রার কাউন্টডাউন।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : ঢাক-ঢোল, শঙ্খধ্বনি, বেদমন্ত্র আর ‘জয় জগন্নাথ’ ধ্বনিতে সোমবার ভোর থেকেই মুখর হয়ে উঠেছিল পুরী। জ্যৈষ্ঠ পূর্ণিমার পুণ্যতিথিতে আয়োজিত হল মহাপ্রভু জগন্নাথদেবের ঐতিহ্যবাহী স্নানযাত্রা। ভোর থেকেই পুরীর বড়দাণ্ডে উপচে পড়ে ভক্তসমাগম। লক্ষাধিক পুণ্যার্থীর উপস্থিতিতে কার্যত জনসমুদ্রে পরিণত হয় শ্রীক্ষেত্র।

জগন্নাথ সংস্কৃতির অন্যতম প্রধান উৎসব এই স্নানযাত্রা। রথযাত্রার সূচনাপর্ব হিসেবেও বিবেচিত হয় এই অনুষ্ঠান। এ দিনই বিরল দর্শনের সুযোগ পান ভক্তরা। কারণ, গর্ভগৃহ থেকে বেরিয়ে স্নানমণ্ডপে আগমন করেন মহাপ্রভু জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রা।

প্রথা মেনে ভোরে শুরু হয় ‘পাহান্ডি বিজে’। সুসজ্জিত শোভাযাত্রার মাধ্যমে মন্দিরের গর্ভগৃহ থেকে দেবদেবীদের স্নানমণ্ডপে নিয়ে আসেন সেবায়েতেরা। শঙ্খধ্বনি, ঘণ্টানাদ ও বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণে মুখর হয়ে ওঠে গোটা মন্দির চত্বর। শতাব্দীপ্রাচীন এই আচার প্রত্যক্ষ করতে রাস্তার দু’ধারে ভিড় জমান অসংখ্য ভক্ত।

স্নানযাত্রার মূল আকর্ষণ ১০৮টি স্বর্ণকলসের পবিত্র জলে দেবতাদের মহাস্নান। মন্দিরের পবিত্র সোনার কূপ থেকে সংগৃহীত জল চন্দন, কর্পূর এবং সুগন্ধি ভেষজ মিশিয়ে দেবতাদের স্নান করানো হয়। বিশ্বাস, এই আচার ভক্তি, পবিত্রতা এবং আত্মশুদ্ধির প্রতীক।

স্নানপর্বের পর পুরীর গজপতি মহারাজ দিব্যসিংহ দেব ঐতিহ্যবাহী ‘ছেড়া পহরা’ অনুষ্ঠান সম্পন্ন করেন। পরে মহাপ্রভুরা আবির্ভূত হন বহুল প্রতীক্ষিত ‘হাতি বেশে’। ‘গজানন বেশ’ নামেও পরিচিত এই বিশেষ রূপে জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রাকে গণেশের আদলে সাজানো হয়। প্রতি বছর এই বিরল রূপ দর্শনের জন্য হাজার হাজার ভক্ত অপেক্ষা করে থাকেন।

তবে স্নানযাত্রার পরই শুরু হয় ‘অনসর’ পর্ব। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, মহাস্নানের পর দেবতারা অসুস্থ হয়ে পড়েন। ফলে আগামী প্রায় পনেরো দিন তাঁরা জনসাধারণের দর্শনের বাইরে থাকবেন। রথযাত্রার আগে ‘নবযৌবন দর্শন’-এর দিন ফের ভক্তদের সামনে আবির্ভূত হবেন তাঁরা।

এ দিকে, বিপুল জনসমাগমের কথা মাথায় রেখে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে প্রশাসন। মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় ৮০ প্লাটুন পুলিশ। পাশাপাশি, কুইক অ্যাকশন টিম, স্নিফার ডগ স্কোয়াড, মেরিন নিরাপত্তা, ছাদ থেকে নজরদারি এবং অত্যাধুনিক কমান্ড কন্ট্রোল সেন্টারের মাধ্যমে গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। প্রশাসনের দাবি, নির্বিঘ্নেই সম্পন্ন হয়েছে স্নানযাত্রার সমস্ত আচার।