হরিজন বস্তির বাসিন্দাদের দুর্দশা খতিয়ে দেখতে বারুইপুরে জাতীয় এসসি কমিশনের সদস্য, বর্ষার আগেই পুনর্বাসনের কড়া নির্দেশ।

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা: দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্দশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বারুইপুর পৌরসভায় কর্মরত একাধিক সাফাই কর্মীর পরিবার। বর্তমানে তারা বারুইপুরের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের হরিজন বস্তিতে বসবাস করছেন। এর আগে তারা যেখানে থাকতেন, সেই জায়গায় বর্তমানে পৌরসভার সুইমিং পুল নির্মিত হওয়ায় তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
বাসিন্দাদের একাংশ পৌরসভার আবাসন প্রকল্পে ফ্ল্যাট পেলেও, এখনও বহু পরিবার স্থায়ী বাসস্থানের অপেক্ষায় রয়েছেন। তাদের অভিযোগ, ন্যূনতম পরিকাঠামোরও অভাব রয়েছে। যে শৌচাগার তারা ব্যবহার করেন, সেখানে দীর্ঘদিন দরজা ও ছাদ ছিল না।
এর আগে বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য উত্তম কর ওই এলাকায় গিয়ে বাসিন্দাদের সঙ্গে দেখা করেন। তাঁর উদ্যোগে শৌচাগারে অস্থায়ী দরজা ও উপরে ত্রিপল দিয়ে ছাউনি দেওয়া হয়। পাশাপাশি তিনি আশ্বাস দিয়েছিলেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এনে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করবেন।
সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সোমবার এলাকা পরিদর্শনে আসেন জাতীয় তফসিলি জাতি কমিশনের সদস্য ড. পার্থ বিশ্বাস। তিনি হরিজন বস্তির পরিস্থিতি ঘুরে দেখেন এবং বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন।
পরিদর্শন শেষে তিনি বারুইপুরের মহকুমা শাসক ও পৌরসভার আধিকারিকদের কড়া ভাষায় নির্দেশ দেন যে, বর্ষা শুরুর আগেই বাকি পরিবারগুলির পুনর্বাসন ও প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোর ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায় জাতীয় তফসিলি জাতি কমিশন বিষয়টিতে আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
এদিন পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন বিজেপি রাজ্য কমিটির সদস্য উত্তম কর এবং বারুইপুর ১ নম্বর মণ্ডলের বিজেপি সভাপতি অ্যাডভোকেট গৌতম চক্রবর্তী।
স্থানীয় বাসিন্দাদের আশা, কমিশনের হস্তক্ষেপের ফলে দীর্ঘদিনের পুনর্বাসন সমস্যা ও ন্যূনতম নাগরিক পরিষেবার অভাব দ্রুত দূর হবে।