কেতন আগরওয়াল হত্যাকাণ্ডের তদন্ত একধাপ এগোল

“অভিযুক্ত চেতন চৌধুরীর গেইট অ্যানালিসিস করা হবে। “

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : কেতন আগরওয়াল হত্যা মামলার তদন্তে আরও এক ধাপ এগোল লোনাভলা গ্রামীণ পুলিশ। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত চেতন চৌধুরীর হাঁটার ভঙ্গির (গেইট অ্যানালিসিস) ফরেন্সিক বিশ্লেষণ করা হবে। কারণ, ঘটনার দিন লোহাগড় দুর্গের প্রবেশদ্বারের কাছে সিসিটিভি ফুটেজে যে ব্যক্তিকে হাঁটতে দেখা গিয়েছিল, তিনি আদৌ চেতন কি না, তা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে নিশ্চিত করাই পুলিশের লক্ষ্য।

গেইট অ্যানালিসিস এমন একটি ফরেন্সিক পদ্ধতি, যেখানে কোনও ব্যক্তির হাঁটার ধরন, শরীরের নড়াচড়া এবং চলাফেরার বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে ভিডিও বা সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়া ব্যক্তির পরিচয় মিলিয়ে দেখা হয়। এই পরীক্ষার ফল তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা।

শুধু তাই নয়, লোহাগড় দুর্গে চেতনকে নিয়ে ফের ঘটনাস্থলের পুনর্গঠনও করবে পুলিশ। এর আগে মূল অভিযুক্ত সিয়া গোয়ালকে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে গোটা ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা হয়েছিল। সেই সময় নিহত কেতন আগরওয়ালের ওজনের সমান একটি ডামি ব্যবহার করে কী ভাবে ঘটনাটি ঘটতে পারে, তার অনুশীলন করেন তদন্তকারীরা। এ বার একই প্রক্রিয়ায় চেতনের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হবে।

তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনার দিন চেতন যে পোশাক পরেছিলেন, সেটিও উদ্ধার করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। যদিও ইতিমধ্যেই তাঁর ব্যবহৃত মোটরবাইক, একটি হুডি এবং হেডফোন বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, ওই মোটরবাইকেই পুনে থেকে লোহাগড় দুর্গে গিয়েছিলেন চেতন।

সোমবার ভাডগাঁও মাভল আদালত অভিযুক্ত সিয়া গোয়াল এবং চেতন চৌধুরীকে ৩ জুলাই পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে। সিয়ার আইনজীবী বিপুল দুশিং জানান, পুলিশ সাত দিনের হেফাজত চাইলেও উভয় পক্ষের সওয়াল-জবাব শুনে আদালত ৩ জুলাই পর্যন্ত হেফাজতের নির্দেশ দেয়।

গত ১৮ জুন পুনের কাছে লোহাগড় দুর্গ থেকে পড়ে কেতন আগরওয়ালের মৃত্যু হয়। প্রথমে দুর্ঘটনা বলে মনে হলেও তদন্তে উঠে আসে খুনের অভিযোগ। পুলিশ সূত্রের দাবি, কেতনের বাগদত্তা সিয়া গোয়াল এই মুহূর্তে বিয়ে করতে চাইছিলেন না এবং পারিবারিক চাপের মুখে ছিলেন। সেই কারণেই বন্ধু চেতন চৌধুরীর সঙ্গে পরিকল্পনা করে কেতনকে খুনের ছক কষা হয়েছিল বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের।

২৩ জুন সিয়া ও চেতনকে গ্রেফতার করা হয়। ইতিমধ্যেই মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে মহারাষ্ট্র সরকার ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের অনুমোদন দিয়েছে। একই সঙ্গে বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে প্রবীণ আইনজীবী তথা রাজ্যসভার সাংসদ উজ্জ্বল নিকমকে। নিহতের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের পর মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীস দ্রুত বিচার ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন।