প্রধান বিচারপতিকে চিঠি ২৩ বিরোধী দলের

ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে কমিশনের বিরুদ্ধে সরব সাগরিকা ঘোষ।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে ফের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হল বিরোধী শিবির। তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষ মঙ্গলবার অভিযোগ করেন, এই প্রক্রিয়াকে ব্যবহার করে বিজেপির সুবিধা করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তাঁর দাবি, বিষয়টি বিচার বিভাগীয় নজরদারির আওতায় আনার আবেদন জানিয়ে দেশের প্রধান বিচারপতির কাছে যৌথ চিঠি পাঠিয়েছে ২৩টি বিরোধী রাজনৈতিক দল।

সাগরিকার অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে এমন একটি প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে, যার মাধ্যমে নির্বাচনী ফলাফলকে প্রভাবিত করার চেষ্টা হতে পারে। তাঁর কথায়, ‘‘অ-বিজেপি বিরোধী দলগুলি এই বিষয়ে একমত। এসআইআর প্রক্রিয়াকে বিজেপির সুবিধার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। তাই নজিরবিহীন পদক্ষেপ হিসেবে ২৩টি বিরোধী দল প্রধান বিচারপতির কাছে যৌথ চিঠি পাঠিয়েছে।’’

তৃণমূল সাংসদের দাবি, দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা এবং ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। সেই কারণেই বিচার বিভাগের হস্তক্ষেপ চেয়েছে বিরোধী দলগুলি। তিনি জানান, গত ৮ জুন বিরোধী জোটের বৈঠকে এই বিষয়ে একযোগে আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পরে আম আদমি পার্টি (আপ) এবং দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাজাগাম (ডিএমকে)-ও ওই উদ্যোগে শামিল হয়। শেষ পর্যন্ত ২৩টি রাজনৈতিক দল এবং এক জন নির্দল সাংসদ প্রধান বিচারপতির উদ্দেশে পাঠানো চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন।

বিরোধী জোটে কোনও ভাঙন নেই বলেও দাবি করেন সাগরিকা। তাঁর বক্তব্য, ‘‘অ-বিজেপি বিরোধীরা সম্পূর্ণ ঐক্যবদ্ধ। সংহতি বজায় রেখেই আমরা বিজেপির বিরুদ্ধে এবং গণতন্ত্রকে দখল করার যে চেষ্টা হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাব।’’

এ দিকে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) নিয়েও কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের সমালোচনা করেছেন তৃণমূল সাংসদ। তাঁর প্রশ্ন, ‘‘এই সময়ে ইউসিসি আনার প্রয়োজন কেন হল? বিজেপি যখনই কোনও আইন আনে, তখনই তার পিছনে সামাজিক অস্থিরতা তৈরির আশঙ্কা দেখা যায়। সর্বসম্মতি এবং বিস্তৃত আলোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত না হলে আমরা এই ইউসিসিকে সমর্থন করতে পারি না।’’

উল্লেখ্য, সোমবারই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় জননিরাপত্তা ও সমাজবিরোধী কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত বিল এবং জনশৃঙ্খলা রক্ষা (সংশোধনী) বিল পাস হয়েছে। সেই অধিবেশনেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন, রাজ্যেও অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালুর লক্ষ্যে অবসরপ্রাপ্ত সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি রঞ্জনা দেশাইয়ের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ২ জুলাই রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে ইউসিসি-র খসড়া বিল পেশ করা হবে বলেও তিনি জানান। এই ঘোষণার পরই ইউসিসি ইস্যুতে কেন্দ্র ও রাজ্য— উভয় স্তরেই রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হয়েছে।