‘টাকার বিনিময়ে দলবদল’ দাবি মানহানিকর

রাঘব চড্ডাকে নিয়ে পোস্ট সরানোর নির্দেশ দিল দিল্লি হাই কোর্ট

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মানহানিকর পোস্ট নিয়ে বড় স্বস্তি পেলেন রাজ্যসভার বিজেপি সাংসদ রাঘব চাড্ডা (Raghav Chadha)। তাঁর সম্পর্কে ‘টাকার বিনিময়ে নিজেকে বিক্রি করে দিয়েছেন’ এবং অর্থের লোভে রাজনৈতিক আনুগত্য বদলেছেন— এমন অভিযোগ তুলে একাধিক পোস্ট অবিলম্বে সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিল দিল্লি হাইকোর্ট (Delhi High Court)। বুধবার বিচারপতি সুব্রহ্মণ্যম প্রসাদ অন্তর্বর্তী নির্দেশে এই রায় দেন।

রাঘব চাড্ডা আদালতের দ্বারস্থ হয়ে অভিযোগ করেছিলেন, তাঁর ভাবমূর্তি নষ্ট করার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে একাধিক ভুয়ো এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে বিকৃত ছবি ও তথ্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি, ওই পোস্টগুলিতে এমনভাবে তথ্য পরিবেশন করা হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষের কাছে ভুল বার্তা পৌঁছয় এবং তাঁর রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়ে।

রাঘবের হয়ে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী রাজীব নাইয়ার (Rajiv Nayar)। আদালতে তিনি জানান, রাজনৈতিক সমালোচনা গণতন্ত্রের অঙ্গ হলেও, মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে ব্যক্তিগত চরিত্রহনন কোনও ভাবেই মতপ্রকাশের স্বাধীনতার আওতায় পড়ে না। সংশ্লিষ্ট পোস্টগুলিতে যে ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে, তা কেবল রাজনৈতিক সমালোচনা নয়, সরাসরি মানহানিকর।

প্রাথমিক শুনানির পর আদালতও সেই যুক্তিতে সায় দেয়। বিচারপতি জানান, সংশ্লিষ্ট পোস্টগুলি গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক মন্তব্যের সীমা অতিক্রম করেছে। তাই সেগুলি সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। যদিও আদালত স্পষ্ট করেছে, এই মামলায় ‘পার্সোনালিটি রাইটস’ বা ব্যক্তিত্বের স্বত্বাধিকার নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। পূর্ণাঙ্গ নির্দেশে সেই বিষয়টি বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা হবে।

এই মামলায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে এসেছে। রাঘবের অভিযোগ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি ডিপফেক এবং বিকৃত ভিজ্যুয়াল ব্যবহার করে তাঁর বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর প্রচার চালানো হয়েছে। আদালতের অন্তর্বর্তী নির্দেশকে তাই এআই-নির্ভর ভুয়ো প্রচারের বিরুদ্ধে একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ বলেই মনে করা হচ্ছে।

উল্লেখযোগ্য ভাবে, সাম্প্রতিক সময়ে এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং জনপরিচিত ব্যক্তিদের নাম, ছবি, কণ্ঠস্বর বা পরিচয় অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সংক্রান্ত একাধিক মামলার শুনানি হয়েছে দিল্লি হাই কোর্টে। অতীতেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে আদালত জনপরিচিত ব্যক্তিদের পরিচয় ও ভাবমূর্তি রক্ষায় অন্তর্বর্তী সুরক্ষা দিয়েছে। রাঘব চড্ডার মামলাও সেই ধারাবাহিকতায় গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। মামলার পূর্ণাঙ্গ নির্দেশ এখনও প্রকাশিত হয়নি।