“পশ্চিমবঙ্গেও শিক্ষকদের সরকারি কর্মচারীর মর্যাদা দেওয়ার বিষয়ে দল নীতিগতভাবে ইতিবাচক।”

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষকদের সরকারি কর্মচারীর স্বীকৃতি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি সামনে এনে বড় ঘোষণা করল বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya)। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন এই সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিতে গেলে বিধানসভায় বিল পাশ করতে হবে। এদিন শিক্ষক বদলি, নতুন নিয়োগ এবং স্কুলে বায়োমেট্রিক উপস্থিতি চালু নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন।
জাতীয় গ্রন্থাগারে আয়োজিত বিজেপির শিক্ষক সেলের কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানান, বিজেপি পরিচালিত বিভিন্ন রাজ্যের মতো পশ্চিমবঙ্গেও শিক্ষকদের সরকারি কর্মচারীর মর্যাদা দেওয়ার বিষয়ে দল নীতিগতভাবে ইতিবাচক। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, শুধুমাত্র ঘোষণা করলেই তা কার্যকর হবে না।
উল্লেখ্য, এই ঘোষণা কার্যকর করার জন্য প্রথমে মন্ত্রিসভায় অনুমোদন, তারপর বিধানসভায় আইন পাসের মতো সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে হবে। ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট স্তরে আলোচনা শুরু হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। তাঁর এই ঘোষণায় স্বাভাবিকভাবেই উৎসাহিত শিক্ষকরা। শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এতে হয়ত তাঁদের আর্থিক সুবিধা বিশেষ হবে এমন নয়, তবে চাকরির নিরাপত্তা অনেকগুণ বেড়ে যাবে।’
এদিনের সভায় উপস্থিত স্কুলশিক্ষা মন্ত্রী দীপক বর্মন শিক্ষক বদলি নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি জানান, অনেক শিক্ষক ব্যক্তিগতভাবে ফোন, মেসেজ বা ই-মেলের মাধ্যমে বদলির আবেদন করছেন। কিন্তু এই ধরনের আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর মতে, নির্ধারিত শিক্ষক সেলের মাধ্যমেই সমস্ত আবেদন জমা দিতে হবে। বদলি প্রক্রিয়া চালুর আগে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ধাপ সম্পূর্ণ করা হবে। তাই এই মুহূর্তে কোনও ধরনের ব্যক্তিগত সুপারিশ বা তদ্বির না করার পরামর্শ দেন তিনি।
শিক্ষক নিয়োগ নিয়েও আশ্বাস দেন স্কুলশিক্ষা মন্ত্রী। তাঁর কথায়, বর্তমান নিয়োগ প্রক্রিয়া একাধিক আইনি জটিলতার মধ্যে রয়েছে। সেই সমস্যাগুলির সমাধান হলেই দ্রুত নিয়োগ সম্পন্ন করা হবে। এরপর নতুন করে আরও নিয়োগের প্রক্রিয়াও শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি রাজ্যের স্কুলগুলিতে ফেস রেকগনিশন প্রযুক্তিভিত্তিক বায়োমেট্রিক হাজিরা ব্যবস্থা দ্রুত চালু করা হবে বলেও তিনি ঘোষণা করেন। পরিকাঠামোগত সমস্যা থাকলেও শিক্ষকদের দায়িত্ব পালনে কোনও খামতি না রাখার আহ্বান জানান তিনি।
এই প্রসঙ্গে বিজেপির শিক্ষক সেলের যুগ্ম আহ্বায়ক পিন্টু পাড়ুই বলেন, ‘সরকারি কর্মীর মর্যাদা দেওয়ার ঘোষণাকে স্বাগত জানাই। এতে অনেক সুযোগ-সুবিধা বাড়বে।’ শিক্ষকদের চাকরির নিরাপত্তা থেকে শুরু করে বদলি, নিয়োগ ও প্রশাসনিক সংস্কার— একাধিক ইস্যুতে এদিন গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেওয়া হয়। এখন এই ঘোষণাগুলি ভবিষ্যতে বাস্তবায়িত হয় কি না, সেদিকেই নজর থাকবে শিক্ষক মহলের।