খামেনেই-র শেষকৃত্যে থাকবেন সলমন খুরশিদ!

কংগ্রেসের হয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যে উপস্থিত থাকবেন তিনি।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : ইরানের প্রাক্তন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই-র (Ayatollah Seyyed Ali Khamenei) রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যে কংগ্রেসের প্রতিনিধিত্ব করবেন দলের বর্ষীয়ান নেতা সলমন খুরশিদ (Salman Khurshid)। বৃহস্পতিবার নিজেই সেই কথা জানিয়েছেন তিনি। সংবাদমাধ্যমকে খুরশিদ বলেন, কংগ্রেসের পক্ষ থেকে তাঁকেই ইরানের রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

খুরশিদের বক্তব্য, ‘‘আমি দলের প্রতিনিধিত্ব করছি। সেই কারণেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতার রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যে উপস্থিত থাকব।’’ তাঁর এই মন্তব্য সামনে আসতেই কূটনৈতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। কারণ, ইরানের এই অনুষ্ঠানকে আন্তর্জাতিক স্তরে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সমাবেশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

ইরানের সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, প্রাক্তন সর্বোচ্চ নেতার স্মৃতিতে তিন দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোক ও শেষকৃত্যের আয়োজন করা হয়েছে। একাধিক শহরে স্মরণসভা এবং শোকযাত্রার পরিকল্পনা করেছে সে দেশের প্রশাসন। রাজধানী তেহরানের পাশাপাশি ধর্মীয় গুরুত্বসম্পন্ন কোম এবং মাশহাদ শহরেও বিশেষ অনুষ্ঠান হবে।

সরকারি সূচি অনুযায়ী, ৪ জুলাই থেকে শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। ৭ জুলাই কোম শহরে বিশেষ ধর্মীয় আচার পালিত হবে। শেষপর্যন্ত ৯ জুলাই উত্তর-পূর্ব ইরানের পবিত্র শহর মাশহাদে তাঁর সমাধিস্থ করার কথা রয়েছে। প্রশাসনের দাবি, বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতির সম্ভাবনা থাকায় গোটা অনুষ্ঠান ধাপে ধাপে সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ইসলামি রীতি অনুযায়ী সাধারণত মৃত্যুর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কবর দেওয়া সম্পন্ন করার প্রথা রয়েছে। তবে যুদ্ধ বা জাতীয় জরুরি পরিস্থিতির মতো বিশেষ ক্ষেত্রে সেই সময়সীমায় ব্যতিক্রম ঘটানো যেতে পারে। ইরানের প্রশাসনও সেই বিধান অনুসরণ করেই দীর্ঘায়িত রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানসূচি নির্ধারণ করেছে বলে জানানো হয়েছে।

এ দিকে, গত ২৪ জুন ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান (Masoud Pezeshkian) ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে (Narendra Modi) রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য ও কবর দেওয়ার অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান বলে সূত্রের দাবি। যদিও ভারতের তরফে সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনও কোনও সরকারি ঘোষণা করা হয়নি।

৮৬ বছর বয়সী আয়াতোল্লা আলি খামেনেই দীর্ঘ ৩৬ বছর ইরানের নেতৃত্বে ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিস্থিতির দিকে নজর রয়েছে আন্তর্জাতিক মহলের।