পুলিশ হেফাজতে দেবরাজ চক্রবর্তী

ডিম আতঙ্কে দেবরাজের মামলা লড়তে পিছপা হচ্ছেন আইনজীবীরা।

সত্যজিৎ চক্রবর্তী, নিজস্ব সংবাদদাতা : তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া দেবরাজ চক্রবর্তীকে ৭ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিল বারাসত আদালত। সরকার পক্ষের তরফে ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতের আবেদন করা হয়েছিল। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এখনও বহু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসা বাকি। বিশেষ করে সম্পত্তি, আর্থিক লেনদেন এবং রাজনৈতিক যোগাযোগের দিকগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে জনরোষ বা সংগঠিত বিক্ষোভ এবং দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতাদের হয়ে দাঁড়ানোর আইনজীবী পাওয়া যাচ্ছে না আদালতে। এবার ডিম আতঙ্কে দেবরাজ চক্রবর্তীর হয়ে দাঁড়াতে চাইলেন না বারাসাত আদালতের আইনজীবীদের একাংশ। দুর্নীতির বিষয়টি তো রয়েছে, পাশাপাশি ডিম আতঙ্কে রয়েছেন বারাসাত আদালতের আইনজীবীরা। বারাসাত আদালতের আইনজীবীদের সূত্র অনুযায়ী, দেবরাজ চক্রবর্তীর হয়ে ডিমের ভয়ে বৃহস্পতিবার দাঁড়াতে চাইছিলেন না আইনজীবীরা। ফলশ্রুতি, দীর্ঘ সময় ধরে বারাসাত আদালতে মুভ করানো যায়নি অভিষেক ঘনিষ্ঠ দেবরাজ চক্রবর্তীর মামলা।দেবরাজ চক্রবর্তীকে গ্রেফতার করে বারাসাত আদালতে আনার পরে নতুন তথ্য মিলেছে যার সঙ্গে দেবরাজের বিরুদ্ধে অভিযোগের সরাসরি সংযোগ নেই । ডিম কতটা পুষ্টিকর জিনিস অথবা প্রবল বেগে দূর থেকে নিক্ষিপ্ত ডিম কতটা ক্ষতি করতে পারে এ নিয়ে চর্চার মাঝে নতুন তথ্য অনুযায়ী, তৃণমূল জমানার দাপুটে নেতার হয়েই সওয়াল করতে চাইছেন না কেউ। দীর্ঘ সময় আইনজীবীর সহায়তার ব্যাপারটি নিশ্চিত হয়নি দেবরাজ চক্রবর্তী জন্য। আর্থিক তছরূপে অভিযুক্ত, পুরুলিয়া থেকে ধৃত দেবরাজ চক্রবর্তী কে বারাসাত আদালতে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে নিয়ে আসা হলেও সকাল থেকেই বিক্ষোভ জমিয়েছিল বিজেপি নেতাকর্মীদের একাংশ, অন্যদিকে ডিম হাতে অজ্ঞাত পরিচয় বেশ কিছু মানুষকে বারাসাত আদালতে দেখতে পাওয়া যায়। ব্যারিকেড করে একদিকে দেওয়াল ও অন্যদিকে পুলিশের ভ্যান রেখে দেবরাজ চক্রবর্তীকে বগল দাবা করে পুলিশ নিয়ে যাওয়ার ফাঁকেও দফায় দফায় ডিম উড়ে এল। বারাসাত আদালতে পুষ্প বৃষ্টির মত ঝরে পড়ছিল ডিম। ঘেরাটোপের মধ্যেও ডিম নিক্ষেপ করা হয়। মনে করা হচ্ছে, এই কারণেই আইনজীবীদের মধ্যে সম্মানহানি হওয়ার আতঙ্ক। আইনজীবীদের মধ্যে একাধিক সিনিয়র ল’ইয়ার জানিয়েছেন, দেবরাজ চক্রবর্তীর হয়ে লড়তে হলে অসম্মানিত ও অপদস্থ হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

পুলিশ ও আদালত সূত্রের খবর, তদন্তের স্বার্থে একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়েছে বলেও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। বিভিন্ন বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া নথিপত্র এখন পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীদের ধারণা, এই নথির মাধ্যমেই তোলাবাজি এবং সম্পত্তি সংক্রান্ত অভিযোগের একাধিক দিক পরিষ্কার হতে পারে।আইনজীবীর দাবি, 30 লক্ষের তোলাবাজির মামলায় বেশ তথ্য পুলিশ পেয়েছে। ইতিমধ্যে অভিযোগকারীর গোপন জবানবন্দী নেওয়া হয়েছে। অন্য একটি বিরাট অংকের তোলাবাজির মামলায় তদন্ত করতে আদালতের কাছে পুলিশ বিভিন্ন বিষয়ে আবেদন করেছে। পুলিশের অনুমান, তদন্ত এড়াতেই ভুয়ো পরিচয় বা অন্যের নামে নথিভুক্ত সিম ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। সেই কারণেই এখন মোবাইলের কল রেকর্ড, বার্তা আদানপ্রদান এবং ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন, ওই ফোনের মাধ্যমে কার কার সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হত এবং কোনও আর্থিক বা বেআইনি লেনদেনের সূত্র সেখানে রয়েছে কি না।তদন্তে নেমে পুলিশ তাঁর একটি মোবাইল ফোনও বাজেয়াপ্ত করেছে। তবে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, তিনি যে মোবাইল নম্বর ব্যবহার করছিলেন, সেই সিম কার্ড অন্য এক ব্যক্তির নামে নথিভুক্ত ছিল। এই তথ্য সামনে আসার পর তদন্ত আরও গভীরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।তদন্তকারী সূত্রের দাবি, বাজেয়াপ্ত হওয়া ওই ল্যাপটপে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকতে পারে। ইতিমধ্যেই সেটি খতিয়ে দেখা শুরু হয়েছে। পুলিশের অনুমান, তোলাবাজির মামলার সঙ্গে যুক্ত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এবং যোগাযোগের সূত্র ওই যন্ত্র থেকেই পাওয়া যেতে পারে। সেই কারণেই তদন্তে এই ল্যাপটপকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।পুলিশ সূত্রে খবর, তাঁকে প্রায় ছ’ঘণ্টা ধরে একাধিক বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। একইসঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথি এবং একটি ল্যাপটপও বাজেয়াপ্ত করেছে তদন্তকারী দল।