ধর্মতলার ‘শহিদ দিবস’ সভা: আদালত অবমাননা মামলায় মমতা-সহ সব পক্ষকে হলফনামার নির্দেশ হাইকোর্টের।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : ধর্মতলায় ২১ জুলাই ‘শহিদ দিবস’-এর সভা ঘিরে আদালত অবমাননার মামলায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে হলফনামা তলব করল কলকাতা হাই কোর্ট। শুক্রবার বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিচারপতি অপূর্ব সিংহ রায়ের ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, এই মামলার সঙ্গে যুক্ত সমস্ত পক্ষকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হলফনামা জমা দিতে হবে। আগামী অগস্ট মাসে মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।
ধর্মতলায় তৃণমূল কংগ্রেসের ২১ জুলাইয়ের সভা উপলক্ষে শহরের প্রধান রাস্তা কার্যত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। সেই ঘটনাকেই কেন্দ্র করে আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করা হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, কলকাতা হাই কোর্ট ২০১৮ সালেই স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিল যে, কোনও রাজনৈতিক সভা বা সমাবেশের জন্য শহরের বড় বা প্রধান রাস্তা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা যাবে না। অথচ সেই নির্দেশ অমান্য করেই ২০২৫ সালে ধর্মতলায় সভার আয়োজন করা হয়।
এর আগে গত ১৯ জুন মামলার শুনানিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নোটিস জারি করেছিল হাই কোর্ট। এবার মামলার পরবর্তী ধাপে আদালত সমস্ত পক্ষকে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে হলফনামা দাখিল করার নির্দেশ দিল।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে রাজনৈতিক সভা ও মিছিলের কারণে কলকাতার যানজট এবং জনভোগান্তি নিয়ে একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছিল হাই কোর্ট। বিচারপতি জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্য এবং বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছিল, কোনও সভা বা মিছিলে রাস্তার অন্তত একটি অংশ সর্বদা যানবাহন ও পথচারীদের জন্য খোলা রাখতে হবে। পাশাপাশি অ্যাম্বুল্যান্স-সহ জরুরি পরিষেবার নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রয়োজনে বিকল্প রুটের ব্যবস্থা করে তা আগাম সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে জানাতে হবে।
আদালত আরও পর্যবেক্ষণ করেছিল, রাজনৈতিক কর্মসূচির জেরে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। সভা বা মিছিল চলাকালীন ভাঙচুর, অশান্তি বা হিংসার ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশ ছিল সেই রায়ে।
বর্তমান মামলায় অভিযোগ, ওই নির্দেশ কার্যকরভাবে মানা হয়নি। ধর্মতলায় ২১ জুলাইয়ের সভার জন্য রাস্তা অবরুদ্ধ হওয়ায় ব্যাপক যানজট তৈরি হয় এবং নিত্যযাত্রী থেকে জরুরি পরিষেবা— সকলেই সমস্যার মুখে পড়েন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই আদালত অবমাননার মামলা দায়ের হয়েছে। এবার হলফনামা জমা পড়ার পরই মামলার পরবর্তী শুনানিতে আদালত পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।