খামেনেইয়ের শেষযাত্রায় নজর বিশ্বের

কোটি মানুষের সমাগমের প্রস্তুতি ইরানে, ঐক্যের বার্তা দিতে মরিয়া তেহরান

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : ইরানের প্রাক্তন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের শেষকৃত্যকে ঘিরে নজিরবিহীন প্রস্তুতি শুরু করেছে তেহরান। সরকারি সূত্রের দাবি, শনিবারের মূল অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় কয়েক কোটি মানুষের সমাগম হতে পারে। শুধু ইরানই নয়, ইরাক-সহ একাধিক দেশে ধারাবাহিক শোকানুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও এই অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন বলে জানা গিয়েছে।

শুক্রবার খামেনেইয়ের মরদেহ তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় আনা হয়। ইরানের জাতীয় পতাকায় মোড়া কফিন ঘিরে শোকস্তব্ধ পরিবেশের ছবি প্রকাশ করেছে সে দেশের সংবাদমাধ্যম। লাল ফুল ও সাদা প্রজাপতির প্রতীকী সাজে সজ্জিত ওই প্রাঙ্গণে তিন দিন মরদেহ রাখা হবে সাধারণ মানুষের শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য। জানা গিয়েছে, এতদিন তাঁর দেহ রাখা হয়েছিল বিশেষ শীতল সংরক্ষণাগারে, অর্থাৎ রেফ্রিজারেটেড কোল্ড স্টোরেজে। ইসলামি রীতিতে রাসায়নিক এমব্যালমিং নিষিদ্ধ হওয়ায় সেই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়নি। শিয়া আইনে ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে দেহ ঠান্ডা অবস্থায় সংরক্ষণ করে দেরিতে সমাধিস্থ অনুমতি রয়েছে বলেও সূত্রের দাবি।

ইরান সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, তেহরানের পর খামেনেইয়ের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফ ও কারবালায়। এরপর আগামী ৯ জুলাই উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশহাদে, ইমাম রেজার মাজারে খামেনেইয়ের দেহ সমাধিস্থ করার কথা। মাশহাদই ছিল খামেনেইয়ের জন্মস্থান।

এই অন্ত্যেষ্টিকে শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান হিসেবে দেখছে না তেহরান। শাসক নেতৃত্বের দাবি, এটি হবে ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের প্রতি জনসমর্থনের এক বড় প্রদর্শন। শাসক শিবিরের লক্ষ্য, বিপুল জনসমাগমের মাধ্যমে বিশ্বের কাছে বার্তা দেওয়া যে যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা ও আন্তর্জাতিক চাপ সত্ত্বেও দেশের মানুষ এখনও সরকারের পাশে রয়েছে। সেই কারণে বিভিন্ন প্রদেশ থেকে মানুষের যাতায়াত, থাকা ও খাবারের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

তবে বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, সরকারি এই প্রচেষ্টার আড়ালে রয়েছে জনঅসন্তোষের বাস্তব ছবি। দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সঙ্কট, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, মূল্যবৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক দমনপীড়নের কারণে সরকারের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা অনেকটাই ক্ষয় হয়েছে। সাম্প্রতিক বিক্ষোভেও শাসকবিরোধী স্লোগান শোনা গিয়েছিল বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের দাবি।

খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র মোজতবা খামেনেই ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন। যদিও নিরাপত্তাজনিত কারণে তিনি এখনও জনসমক্ষে আসেননি। জানা গিয়েছে, প্রাণনাশের আশঙ্কায় বাবার শেষকৃত্যেও তিনি উপস্থিত থাকবেন না।

এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ-সহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা শেষকৃত্যে যোগ দিচ্ছেন। ভারতের পক্ষ থেকে বিহারের রাজ্যপাল সৈয়দ আতা হাসনাইন এবং বিদেশ প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মার্গারিটা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। ফলে খামেনেইয়ের শেষযাত্রা শুধু ইরানের নয়, আন্তর্জাতিক কূটনীতিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায় পরিণত হয়েছে।