দীর্ঘ অপেক্ষার শেষ ,কনিষ্ঠতম ভারতীয় হিসেবে এশিয়াড শুটিংয়ে পদক তিলোত্তমার

আর প্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্কঃ অবশেষে অপেক্ষা শেষ হল তিলোত্তমা সেনের। ৫০ মিটার থ্রি পজিশনের টিম ইভেন্টে রুপোর মেডেল জিতলেন। যা তাঁর প্রথম এশিয়ান গেমস মেডেল। তিলোত্তমা জানান, “আগের এশিয়ান গেমসের জন্য নেওয়া জাতীয় ট্রায়ালে আমি তৃতীয় হয়েছিলাম। কিন্তু সেবার একজন শুটারকে দু’টো ইভেন্টে নামানোর ফলে আমি দলে জায়গা পাইনি। সেটা নিয়ে আক্ষেপ ছিলই। আজকে সেই আক্ষেপ মিটল।” কনিষ্ঠতম ভারতীয় হিসেবে এশিয়াড শুটিংয়ে পদক জিতলেন তিলোত্তমা। জন্ম থেকেই বেঙ্গালুরুর বাসিন্দা হলেও তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নদিয়ার চাকদহ।
বছর চারেক আগে বেঙ্গালুরুর বাসিন্দা এই বাঙালি কিশোরী তখন ভারতীয় শুটিংয়ে রীতিমত সবার চর্চা হয়ে উঠেছিলেন। ১৪ বছর বয়সেই তাঁর দখলে আসে বিশ্ব জুনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপের জোড়া পদক। পরের বছর এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে অসাধারণ পারফরম্যান্স, সঙ্গে বিশ্বকাপে রুপো। এছাড়াও জিতে নেন প্যারিস অলিম্পিকের কোটাও। সকলের আশা ছিল ২০২৩ এশিয়ান গেমসের দলে নিশ্চিতভাবে থাকবেন তিনি। তবে জাতীয় শুটিং ফেডারেশনের নীতির কারণে আর সম্ভব হয়নি তা।
১৭৬৩ পয়েন্ট নিয়ে রুপো পাওয়া দলে তিলোত্তমার সঙ্গে ছিলেন অসি চৌকসি এবং ভিদার্ষা কোচালুমকাল। তবে তিলোত্তমার আরেকটা আক্ষেপ হচ্ছে ব্যক্তিগত ইভেন্টে একটুর জন্য পদক হাতছাড়া হওয়ার কারণে। তিনি জানান “সত্যি বলতে, মিশ্র অনুভূতি হচ্ছে। একটা ইভেন্টে পদক পেয়েছি। আরেকটাতেও পেতে পারতাম। একটুর জন্য হাতছাড়া হল। ফলে খারাপও লাগছে। তবে নিজের প্রথম এশিয়ান গেমস থেকে খালি হাতে ফিরছি না। সেটা ইতিবাচক দিক আমার কাছে।
ব্যক্তিগত ইভেন্টে একটা সময় পর্যন্ত শীর্ষে ছিলেন তিলোত্তমা। কিন্তু স্ট্যান্ডিংয়ের তৃতীয় সিরিজে ৯.৭ এবং পঞ্চম সিরিজে ৯.৪ স্কোর করেই পিছিয়ে পড়েন। সবমিলিয়ে ০.৮ পয়েন্টের জন্য অর্থাৎ একটুর জন্য ব্রোঞ্জ হাতছাড়া হয় তাঁর। “এখনও বুঝতে পারছি না, কী হয়েছিল। মনে হয় আমি শুট করতে একটু বেশি তাড়াহুড়ো করে ফেলেছি। যাই হোক, আমি ভবিষ্যতে ফাইনাল খেলার জন্য আরও ভালোভাবে প্রস্তুতি নেব।” বক্তব্য তিলোত্তমার।
এখন এই বাঙালি শুটারের নতুন স্বপ্ন হল ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক। “আমার লক্ষ্য অলিম্পিকে দেশের প্রতিনিধিত্ব করা। গতবার কোটা জিতলেও যেতে পারিনি। এবার নিজেকে সেভাবেই তৈরি করতে চাই।”