পদকহীন মনু, এশিয়াডের আয়োজন নিয়ে প্রশ্ন বাবার, ‘নর্দমার গন্ধের মধ্যে শুটিং করছেন অ্যাথলিটেরা’।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : এশিয়ান গেমসে পদকহীন অভিযান শেষ হল ভারতের তারকা শুটার মনু ভাকরের। প্যারিস অলিম্পিক্সে জোড়া পদকজয়ী মনুকে ঘিরে এ বারও বড় প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু আইচি-নাগোয়ায় সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারলেন না তিনি। সোমবার মহিলাদের ২৫ মিটার পিস্তলের দলগত ফাইনালে পঞ্চম হয়ে অভিযান শেষ করার পর এশিয়াডের শুটিংয়ের আয়োজন, যাতায়াত এবং বাসের সময়সূচি নিয়ে প্রশ্ন তুললেন মনুর বাবা রাম কিশন ভাকর।
সোমবার ইশা সিং, মনু এবং রাহি সারনোবতের ভারতীয় দল ১৭২৭-৫৬x স্কোর করে পঞ্চম হয়। সোনা জিতেছে চিন (১৭৪৩-৬৮x), রুপোজয় দক্ষিণ কোরিয়ার (১৭৩৫-৬৫x), ব্রোঞ্জ চিনা তাইপের (১৭৩৪-৪৮x)। রাম কিশনের দাবি, রাহির একটি শট ‘জ়িরো’ হওয়াতেই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। তাঁর কথায়, ‘‘আমরা তখন সোনার জন্য লড়ছিলাম। রাহির একটি শট সব কিছু বদলে দিল। ওই শটের জন্য আমরা এক ধাক্কায় ১০ পয়েন্ট পিছিয়ে যাই।’’
তবে শুধু ফল নয়, এশিয়াডের আয়োজন নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মনুর বাবা। তাঁর দাবি, শুটিং রেঞ্জের কাছে নর্দমার গন্ধ রয়েছে। তা সত্ত্বেও সেই পরিবেশেই অ্যাথলিটদের শুটিং করতে হচ্ছে। শুধু তা-ই নয়, নাগোয়ায় থাকা থেকে শুটিং রেঞ্জে যাতায়াত করতেও প্রতিদিন চার-পাঁচ ঘণ্টা সময় চলে যাচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁর।
রাম কিশনের কথায়, ‘‘এখানে নর্দমার গন্ধ পাওয়া যায়। সেই পরিবেশেই অ্যাথলিটেরা শুটিং করছেন। রেঞ্জটি নাগোয়া শহর থেকে অনেক দূরে। প্রতিদিন যাতায়াতেই চার-পাঁচ ঘণ্টা চলে যাচ্ছে। তার উপর বাসের সময়ও ঠিকঠাক নয়।’’
মনু এ বার ব্যক্তিগত ২৫ মিটার পিস্তলে ৫৭৯-১৮x স্কোর করে যোগ্যতা পর্বে ১১তম হয়ে ফাইনালে উঠতে পারেননি। ১০ মিটার এয়ার পিস্তলেও ১৮১.১ পয়েন্ট নিয়ে পঞ্চম হয়ে ফাইনালে জায়গা হয়নি তাঁর। দলগত বিভাগেও ভারত চতুর্থ হয়।
এশিয়াডের আগে অবশ্য দুরন্ত ছন্দে ছিলেন মনু। ২০২৬ সালের হাংঝৌ বিশ্বকাপে ২৫ মিটার পিস্তলে ব্রোঞ্জ এবং মিউনিখ বিশ্বকাপে ১০ মিটার এয়ার পিস্তলের মিক্সড টিম ইভেন্টে রুপো জিতেছিলেন তিনি। ঘরের মাটিতে এশিয়ান শুটিং চ্যাম্পিয়নশিপেও ২৫ মিটার পিস্তলে রুপো পেয়েছিলেন মনু।